রাষ্ট্রীয় বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। মাদক চোরাচালানের দায়ে ইন্দোনেশিয়ায় ১১ বিদেশির মৃত্যুদণ্ড পেছাবে না—এই ঘোষণা দিয়ে উইদোদো গতকাল মঙ্গলবার এ কথা বলেন। খবর রয়টার্সের।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১১ ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল ও ফ্রান্সের নাগরিক। ফায়ারিং স্কোয়াডে এদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার রায় দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের ক্ষমা করে দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন উইদোদো। তিনি গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি কথা আমি দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে বলতে চাই, মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না। কারণ, নিজস্ব আইন চর্চা করাটা আমাদের সার্বভৌম অধিকার।’
তবে মৃত্যুদণ্ড কবে কার্যকর হবে সে বিষয়ে কিছু বলেননি প্রেসিডেন্ট উইদোদো। ফ্রান্স, ব্রাজিল ও নেদারল্যান্ডসের সরকারের পক্ষ থেকে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে ফোন পেয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। ১১ জনের মধ্যে দুজন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। এদের নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে।
দুই অস্ট্রেলীয়র আইনজীবী টোদাং মুলিয়া লুবিস বলেন, ‘আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমরা আপিল করার চিন্তা করছি। আপিলের জন্য আমরা দুই সপ্তাহ সময় পাব। যদি আইন মেনে চলা হয় তাহলে আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না।’
অস্ট্রেলিয়া তার দুই নাগরিক মাইওরান সুকুমারান এবং অ্যান্ড্রু চ্যানের জীবন রক্ষায় ব্যাপক চেষ্টা করে যাচ্ছে। ব্রাজিল এবং নেদারল্যান্ডস ইতিমধ্যে গত মাসে তাদের দেশের নাগরিকের ফাঁসি দেওয়ার কারণে ইন্দোনেশিয়া থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
দুই দেশের এই রেষারেষির জেরে ইন্দোনেশিয়াও ব্রাজিল থেকে যুদ্ধবিমান এবং রকেট লঞ্চার কেনার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রতিবেশী মালয়েশিয়ার মতো ইন্দোনেশিয়ায়ও মাদক চোরাচালানের জন্য বিশ্বের অন্যতম কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর দেশটিতে এই অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান চালু হয়।

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন