বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১০০ বছরের বেশি সময় ধরে ভারতে প্রতিদিনের তাপমাত্রার রেকর্ড রাখা হচ্ছে। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ বলছে, ভারতের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে গত এপ্রিলের গড় তাপমাত্রা এই অঞ্চলের অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে।

যদিও ভারত ও পাকিস্তান বছরের এই সময়ে দাবদাহ স্বাভাবিক। এরপরও চলতি বছরে প্রচণ্ড গরমের জন্য বৈশ্বিক উষ্ণতাকে দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা। এ বছর দাবদাহের শুরুর সময়, তীব্রতা ও ব্যাপ্তি পর্যবেক্ষণ করে এটাই মনে হয়েছে বিজ্ঞানীদের।
গত কয়েক দিনে অবশ্য এ অঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। তবে আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, আগামী দিনগুলোতে গরমের তীব্রতা আবার বাড়বে। এ সময় পাকিস্তান ও ভারতের উত্তর-পশ্চিমের কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যেতে পারে।

এদিকে ভারতের উত্তরাঞ্চল ও পাকিস্তান যখন প্রচণ্ড গরমে নাকাল, তখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলগুলোতে অস্বাভাবিকভাবে কম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ২ মে হংকংয়ে ১৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ১৯১৭ সালের মে মাসের পর হংকংয়ে এটিই ছিল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২০১৩ সালে।

একই দিন চীনের দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংঝউ শহরে তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে মে মাসে কখনো শহরটিতে এত কম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়নি। এক দিন পর ৪ মে থাইল্যান্ডের উম্পহাং জেলায় সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। গোটা থাইল্যান্ডে মে মাসে এত কম তাপমাত্রা এর আগে দেখা যায়নি।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌসুমি বায়ুর কারণে এ অঞ্চলে ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। তবে উত্তর ভারত ও পাকিস্তানের জন্য তাপমাত্রা কমার কোনো আশ্বাস দিতে পারছেন না তাঁরা; বরং আগামী দিনগুলোতে ভয়াবহ তাপমাত্রা ফিরে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে এশিয়ার বাইরে অস্ট্রেলিয়ায় শীত পড়তে শুরু করেছে। গত মাসে প্রচণ্ড গরমে নাকাল হয়ে পড়েছিল দেশটির জনজীবন। গত বুধবার অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সেদিন এ অঞ্চলের তাপমাত্রা ছিল সাউথ অস্ট্রেলিয়া, ভিক্টোরিয়া, নিউ সাউথ ওয়েলস ও তাসমানিয়ার গড় তাপমাত্রার চেয়ে ৪ ডিগ্রি থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম।

এদিকে গভীর নিম্নচাপের কারণে গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার তাসমানিয়ায় ভারী বর্ষণ হয়েছে। একই সঙ্গে এ এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। সাধারণত বছরে কয়েকবার এ অঞ্চলে আবহাওয়া এমন বিরূপ হয়ে পড়ে। এর জেরে দেখা দেয় ঝড়, বৃষ্টি ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন