default-image

জাপানের নাগোইয়া শহরে শনিবার শেষ হয়েছে বিশ্বের অগ্রসর অর্থনীতির জোট জি–২০-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুই দিনের বৈঠক। জোটভুক্ত ১৯টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে আরও নয়টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও আমন্ত্রিত অংশগ্রহণকারী হিসেবে বৈঠকে যোগ দেন।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নৈশভোজে মিলিত হওয়ার মধ্য দিয়ে দুই দিনের এই সম্মেলন শুরু হয়। আজ শনিবার দ্বিতীয় দিনের আলোচ্যসূচির পুরোটাই ছিল মূল বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত। তিন পর্বের আলোচনায় মন্ত্রীরা বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে মুক্তবাজার ও বিশ্বায়ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে জোটভুক্ত দেশগুলোর করণীয় এবং সেই সঙ্গে আফ্রিকার উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা করে করণীয় পদক্ষেপের দিকনির্দেশনা ঠিক করে নিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বহুজাতিক কাঠামোর ওপর আস্থা হ্রাস পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে এ রকম অভিন্ন মতামত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, অর্থনীতি ও বাণিজ্য খাতে দেখা দেওয়া চলমান সমস্যাগুলোর নিষ্পত্তি করতে হলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কার অপরিহার্য। তবে সংস্কার ঠিক কোন পথ ধরে এগিয়ে নিতে হবে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা সম্মেলনে দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো অগ্রসর দেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা জোরদার করে নেওয়ার ওপর চাপ দিচ্ছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো এদের দৃষ্টিতে দেখা বর্তমানে প্রচলিত অন্যায় বাণিজ্যরীতি সংশোধন করে নেওয়ার বিষয়ে বেশি উৎসাহী।

মুক্তবাণিজ্য নিয়ে চলা আলোচনায় জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত চীন, ভারত, জাপানসহ ১৬টি দেশের মধ্যে আঞ্চলিক সার্বিক অর্থনৈতিক অংশীদার চুক্তি দ্রুত স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। উল্লেখ্য, এই চুক্তি নিয়ে শুরুতে আগ্রহ দেখানো ভারত ইদানীং সংশয় প্রকাশ করতে শুরু করেছে। ভারতের এই অনীহার পেছনে আছে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য আরও বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে দেখা দেওয়া উদ্বেগ। তবে জি–২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে চলা আলোচনার শেষে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ভারতের দোদুল্যমানতা সত্ত্বেও ১৬টি দেশের সব কটির উচিত হবে চুক্তি সম্পাদন করা।

বৈঠকের দ্বিতীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগতি ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে অর্থায়ন ব্যবস্থা, মানব উন্নয়ন ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ, লিঙ্গসমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন এবং ওসাকায় জোটের শীর্ষ সম্মেলনে জাপানের প্রস্তাবিত প্লাস্টিক বর্জ্য সমস্যা মোকাবিলার ‘নীল সমুদ্র ধারণা’ অন্তর্ভুক্ত ছিল। টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার পথে দেখা দেওয়া প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি অগ্রগতির দিকগুলো চিহ্নিত করে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রে চালানো প্রচেষ্টা জোরদার ও দ্বিগুণ করে নেওয়ার ওপর মন্ত্রীরা গুরুত্ব আরোপ করেছেন। এ ছাড়া অবকাঠামো এবং সংযোগ বা কানেকটিভিটি জোরদার করে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়। অবকাঠামো বিষয়ে উন্নতমানের অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার দিকটিও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আলোচনায় উঠে এসেছে।

তৃতীয় ও শেষ পর্যায়ের বৈঠকে আফ্রিকার প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনার মধ্যে দিয়ে শেষ হয় দুই দিনের বৈঠক। বৈঠকের শেষে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জি–২০ জোটের পরবর্তী সভাপতি দেশ সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সভাপতিত্ব হস্তান্তর করেন। ২০২০ সালের জি–২০ শীর্ষ সম্মেলন ও মন্ত্রী পর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠক সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0