default-image

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে বলেছেন, বোমা হামলার বিষয়ে ভারত তাঁদের তথ্য দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেই তথ্য অনুযায়ী সঠিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিক্রমাসিংহে বলেন, ‘ভারত আমাদের গোপন তথ্য দিয়েছিল, কিন্তু আমরা ঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারিনি।’ একের পর এক বোমা হামলায় তিন শতাধিক মানুষ নিহত ও পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার তিন দিন পর এ মন্তব্য করলেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী।

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য শ্রীলঙ্কা বিদেশি সংস্থার সহায়তা নিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন বিক্রমাসিংহে। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এই ঘটনার সঙ্গে যাঁদের জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাঁরা সবাই শ্রীলঙ্কার নাগরিক। তবে তা সত্ত্বেও তাঁদের সঙ্গে বহির্বিশ্বের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই করার জন্যই আমরা কিছু বিদেশি সংস্থার সাহায্য নিচ্ছি।’

ভারত ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তদন্তকাজে শ্রীলঙ্কাকে সহায়তা করছে বলে নিশ্চিত করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের সম্পর্ক বেশ ভালো। আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য তারা দিচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকেও সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। তারা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত কেউই নিরাপদ নয়।’

শ্রীলঙ্কার এই হামলার সঙ্গে ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার সংশ্লিষ্টতা আছে বলে এর আগে দাবি করেছিলেন দেশটির কয়েকজন মন্ত্রী। তবে প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহে বলেছেন, ক্রাইস্টচার্চ হামলারও আগে এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

এমন ভয়াবহ হামলার পর শ্রীলঙ্কার পর্যটন ব্যবসা হুমকির মুখে পড়বে—এমন কথা বলছেন অনেকে। কিন্তু বিক্রমাসিংহে বলেছেন, এই ধাক্কা খুব শিগগিরই কাটিয়ে উঠবে তাঁর দেশ। রনিল বলেন, ‘আমরা খুব তাড়াতাড়ি এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠব। শুধু শ্রীলঙ্কা নয়, মিসর, বালিও (ইন্দোনেশিয়া) এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। এই ঘটনা অবশ্যই আমাদের অর্থনীতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক, কিন্তু শ্রীলঙ্কার পর্যটন অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াবে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন