ভেড়ার প্রতি অবহেলা, নিউজিল্যান্ডে খামারির দণ্ড

প্রতীকী ছবি: রয়টার্স

খামারে থাকা ভেড়াগুলোর ঠিকঠাক যত্ন নেননি। দিনের পর দিন করেছেন অবহেলা। সতর্ক করার পরও শোনেননি। এতে একটি–দুটি নয়, খামারের ২২৬টি ভেড়া অসুস্থ হয়েছে। অপুষ্টিতে ভুগেছে। আর তাতেই প্রাণিকল্যাণ আইনে হয়েছে মামলা। দণ্ড পেতে হয়েছে ওই খামারিকে।

ঘটনাটি নিউজিল্যান্ডের। দণ্ডপ্রাপ্ত খামারির নাম বেভান স্কট টেইট।
মঙ্গলবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার নিউজিল্যান্ডের একটি আদালত খামারি বেভানকে ৯ মাস অন্তরীণ থাকার দণ্ড দিয়েছেন। তিনি নিজের বাড়িতেই অন্তরীণ থাকতে পারবেন। তাঁকে ১৫০ ঘণ্টা সামাজিক সেবামূলক কাজে অংশ নিতে হবে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, পরবর্তী চার বছরের জন্য পশুর খামার পরিচালনা কিংবা মালিকানার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না বেভান।

নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডের রাসোক ক্রিক এলাকায় বেভানের পশুর খামার। ২০১৯ সালের এপ্রিলে খামারটি পরিদর্শনে যান নিউজিল্যান্ডের প্রাণিকল্যাণ খাতের কর্মকর্তারা। এ সময় খামারটিতে থাকা ভেড়াগুলোর দুরবস্থার বিষয়টি প্রথম কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

ওই খামারের অনেকগুলো ভেড়াই সংক্রমণে ভুগছিল। অনেক ভেড়ার পশম দুই বছর ধরে কাটা হয়নি। আইন মেনে পশুদের যত্ন নিতে ওই সময় বেভানকে সতর্ক করা হয়। তবে আগস্টে আবারও পরিদর্শনে গেলে দেখা যায়, অবস্থার উন্নতি তো হয়ইনি, বরং আরও অবনতি হয়েছে।

তবে এর মধ্যেই অনেকগুলো ভেড়া বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছিলেন বেভান। কিছু ভেড়া আশপাশের খামারে দিয়ে দিয়েছিলেন। এরপরও তাঁর খামারে অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে ছিল ২২৬টি ভেড়া। তীব্র অপুষ্টিতে ভুগে রীতিমতো অসুস্থ হয়ে পড়েছিল ভেড়াগুলো।

এই বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের ক্ষুদ্র শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাণিকল্যাণ ব্যবস্থাপক গ্রে হ্যারিসন বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। বেশির ভাগ খামারি তাঁদের পশুগুলোর নিয়মিত যত্ন নেন। তবে বেভান তাঁর পশুগুলোর প্রতি ভীষণ রকম অবহেলা করেছেন।’

তবে বেভানের আইনজীবী আদালতে দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেল হতাশায় ভুগছিলেন। এই কারণে খামারের ভেড়াগুলোর যত্ন নিতে পারেননি। এমনকি তিনি (বেভান) হতাশা কাটাতে সহায়তা চেয়েও পাননি। নিউজিল্যান্ডের রুরাল সাপোর্ট ট্রাস্ট তাঁকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

আইনজীবীর এমন দাবির পরও আদালত বেভানের বিরুদ্ধে দণ্ড ঘোষণা করেছেন। দণ্ড মেনে এখন বেভানকে অন্তরীণ থাকার পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে সমাজসেবায় অংশ নিতে হবে। চার বছরের জন্য দূরে থাকতে হবে খামার পরিচালনার কার্যক্রম থেকে।