default-image

অবশেষে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী মঙ্গলবারের আগেই এ পরিকল্পনা প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির বিরোধী দলের নেতা বেনি গান্টজকে ওয়াশিংটনে আমন্ত্রণ জানানোর পর ২৪ জানুয়ারি তিনি এ মন্তব্য করেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এয়ারফোর্স ওয়ানে করে মিয়ামি যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, খুব শিগগিরই তিনি মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করতে যাচ্ছেন। তিনি বরাবরের মতোই জানিয়ে দেন যে, তিনি চুক্তি করতে ভালোবাসেন এবং এ ক্ষেত্রে তিনিই সেরা। ট্রাম্প বলেন, ‘সবাই বলে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি স্থাপন সবচেয়ে কঠিন কাজ।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী মঙ্গলবার নিয়মিত বৈঠকের আগেই মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন।

এরই মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের তৈরি করা খসড়ায় ঠাঁই পাওয়া কিছু বিষয় প্রকাশিত হয়েছে। গত জুলাই মাসে কুশনার মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ৫ হাজার কোটি ডলারের একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন, যা আলোচনার জন্ম দিলেও বিবদমান পক্ষগুলো গ্রহণ করবে বলে মনে হয়নি। ফিলিস্তিনি নেতারা শুরুতেই ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আখ্যা দিয়ে এ ধরনের শান্তি স্থাপনের উদ্যোগকে খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁরা নিজেদের দেশ ও ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের বিষয়ে দীর্ঘ দিনের দাবিকে সামনে রেখেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ফিলিস্তিনি নেতাদের দৃষ্টিতে কুশনার তাঁদের বোকা বানাতেই এমন একটি প্রস্তাব হাজির করেছেন।

এ বিষয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ফিলিস্তিনি নেতাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কিছু আলাপ করেছেন। পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ‘আমি নিশ্চিত তাঁরা (ফিলিস্তিনি নেতৃবৃন্দ) শুরুতে নেতিবাচক আচরণ করবেন, যদিও তা তাঁদের জন্য খুবই ইতিবাচক।’

মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা বিষয়ে ওয়াশিংটনের নতুন দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে দ্য গার্ডিয়ান লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের নেতাদের একটি সমঝোতায় আনার চেষ্টা করেছিল। ওয়াশিংটনের গৃহীত আগের যেকোনো শান্তি উদ্যোগের কেন্দ্রেই ছিল দু পক্ষের সমঝোতার বিষয়টি কিন্তু ট্রাম্পের বক্তব্য বলে দিচ্ছে যে, এবার ওয়াশিংটন ভিন্ন পথ নিতে পারে। তারা হয়তো এমন প্রস্তাব হাজির করবে, যেখানে ফিলিস্তিনের ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ বলে কাজ সারতে হবে।

গার্ডিয়ানের এমন অনুমানের কারণ সম্ভবত ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম। কারণ, একই সময়ে ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য শান্তি নিয়ে মার্কিন পরিকল্পনাটি তাদের জন্য বেশ অনুকূল হবে। এর মাধ্যমে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের বিরাট অঞ্চলজুড়ে স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। বিশেষত জেরুসালেমের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা পরিকল্পনায় থাকছে বলেও সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে ইসরায়েলের স্থানীয় সংবাদপত্রে। বিপরীতে ফিলিস্তিনিরা ‘কড়া নিয়ন্ত্রণের’ মধ্যে কিছুটা ‘স্বায়ত্তশাসন’ পাবে।

ইসরায়েলের সংবাদপত্রে প্রকাশিত এসব তথ্য কতটা সত্য, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও এর কাছাকাছি কিছু যে ঘটতে পারে তা অনেকেই মানছেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ট্রাম্প প্রশাসনই সবচেয়ে বেশি ইসরায়েল-ঘেঁষা নীতি নিয়ে চলছে। তাঁর মেয়াদেই ওয়াশিংটন কয়েক দশকের পুরোনো দুই রাষ্ট্র নীতি থেকে সরে আসে। শুধু তাই নয়, জেরুসালেমকেও ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আর ফিলিস্তিনিদের জন্য সহায়তা তহবিলের পরিমাণ কোটি ডলার কমানো ও ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের দখলকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় বলে দেওয়া ঘোষণার মতো বিষয়গুলো তো রয়েছেই।

এ বিষয়ে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র যা কিছু করেছে, তার সবই ফিলিস্তিন প্রত্যাখ্যান করে। বিশেষত জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি খারিজ না করার কোনো কারণ নেই।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0