জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হাত থেকে ইরাকের মসুল শহর পুনরুদ্ধার করতে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরাকি ও কুর্দিদের যৌথ বাহিনী। কমবেশি ২৫ হাজার সদস্যের এই বাহিনী আগামী এপ্রিল বা মে মাসে অভিযান শুরু করতে পারে। মার্কিন একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। খবর এএফপি ও বিবিসির।
১০ লাখের বেশি জনসংখ্যার উত্তরাঞ্চলীয় শহর মসুল ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। গত বছরের জুন মাসে এটি দখল করে নেয় আইএসের জঙ্গিরা। বর্তমানে সেখানে এক থেকে দুই হাজারের মতো জঙ্গি রয়েছে। তাদের মসুল থেকে উৎখাতে ২০ থেকে ২৫ হাজার সেনাসদস্য দরকার বলে জানিয়েছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ওই কর্মকর্তা।
সেন্ট্রাল কমান্ডের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এখনো আমরা যে সময়কাঠামো নিয়ে চিন্তা করছি, সেটা এপ্রিল-মে। তার চেয়ে দেরি হয়ে গেলে সেটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।’ মে মাসের পর মুসলিমদের পবিত্র রমজান এবং অপেক্ষাকৃত গরমকাল চলে আসার বিষয়টির ইঙ্গিত করে এ কথা বলেন তিনি।
মসুল অভিযানের সময় বিমান হামলার জন্য সহায়ক হিসেবে মার্কিন স্থল বাহিনীর কোনো ভূমিকা থাকবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি কেন্দ্রীয় কমান্ডের ওই কর্মকর্তা। তবে এর সম্ভাবনাকে উড়িয়েও দেননি তিনি।
ওবামা প্রশাসন, বিশেষ করে আফগানিস্তান ও ইরাক আগ্রাসনের অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে আপাতত আর স্থল সেনা পাঠাতে চাইছে না।
কয়েক মাস ধরে আইএসের ওপর মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের যে বিমান হামলা চলছে, সাম্প্রতিক সময়ে তার মূল লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে মসুল এলাকাকে। পাশাপাশি কুর্দি বাহিনী এলাকাটির আশপাশে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, অভিযানের সময়সীমা প্রচার করার বিষয়টি প্রথাবিরুদ্ধ। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিয়েছে, আইএস জঙ্গিরা এখন পিছু হটছে। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের এটা দেখানোর দরকার রয়েছে যে তারা ইরাকি সামরিক বাহিনীর সক্ষমতাকে পুনর্গঠন করতে যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তা ফল দিতে শুরু করেছে।
এর আগে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-এবাদিও মসুলে অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। চলতি সপ্তাহে এবাদি বলেন, তাঁর বাহিনী ‘মসুলে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে’। বিবিসি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী বলেন, মসুল কয়েক মাসের মধ্যেই মুক্ত হবে। হতাহতের সংখ্যা সীমিত রেখেই সেটি করা সম্ভব হবে।
রিয়াদে সেনা কর্মকর্তাদের বৈঠক: ২০টির বেশি দেশের সামরিক বাহিনীর প্রধানেরা গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের রিয়াদে এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরাকি বাহিনীকে শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠক সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে ইরাকি সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে ‘দৃঢ় পরিকল্পনা’ খোঁজা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন