অভিবাসন কর্মকর্তারা এএফপিকে বলেছেন, শ্রীলঙ্কার ৭৩ বছর বয়সী নেতা গোতাবায়া, তাঁর স্ত্রী ও একজন দেহরক্ষীসহ চার যাত্রী নিয়ে সামরিক বিমান অ্যান্তোনভ–৩২ মঙ্গলবার মধ্যরাতে বন্দরনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালদ্বীপের উদ্দেশে রওনা করে।

গত মার্চ থেকে শ্রীলঙ্কায় চলছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। গত শনিবার শত শত বিক্ষোভকারী প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার বাসভবনে ঢোকে। এরপর এদিন রাতে পদত্যাগের ঘোষণা দেন গোতাবায়া। ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার তাঁর পদত্যাগের কথা। এর আগে তিনি দেশ ছাড়লেন।

পদত্যাগের আগেই গত সোমবার রাতে তিনি দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁকে আটকে দেন। পরে তিনি নৌপথে পালানোর চেষ্টা করেন। গোতাবায়ার ভাই সাবেক অর্থমন্ত্রী বাসিল রাজাপক্ষেও এদিন পালানোর চেষ্টা করেন।

শ্রীলঙ্কায় ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তারের সুযোগ নেই। গোতাবায়া আশঙ্কা করছিলেন, প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। এ জন্য তিনি সোমবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের উদ্দেশে দেশত্যাগের চেষ্টা করেন। তবে অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁকে আটকে দেন। তিনি ও তাঁর স্ত্রীসহ পরিবারের ১৫ সদস্য আরব আমিরাতের চারটি ফ্লাইট ধরতে পারেননি। পরে বন্দরনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশের সামরিক ঘাঁটিতে ফিরে যান তাঁরা।

দেশত্যাগের আগে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে। সোমবার তিনি পদত্যাগপত্রে সই করেন বলে জানা গেছে। গোতাবায়া পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করে একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেছেন। ওই কর্মকর্তা পদত্যাগপত্রটি স্পিকারের কাছে হস্তান্তর করবেন। গোতাবায়ার পদত্যাগপত্র কার্যকর হবে বুধবার (১৩ জুলাই) থেকে। স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেবর্ধনে বুধবার জনসমক্ষে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগপত্র জাতির কাছে ঘোষণা করবেন।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন