কমল গুণারত্নে আরও জানান, এখন সদ্যসাবেক প্রধানমন্ত্রী ত্রিঙ্কোমালির নৌ ঘাঁটিতে রয়েছেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে তাঁকে তাঁর পছন্দমতো জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হবে।

করোনার ধাক্কার পাশাপাশি সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক দুর্দশার মুখে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। কয়েক মাস ধরে খাবার, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকটে পড়েছে দেশটি। ব্যাপকভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, চলছে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট। এ পরিস্থিতিতে সরকার পতনের দাবিতে এক মাসের বেশি সময় দেশটিতে বিক্ষোভ চলেছে।

গত সোমবার তুমুল বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হন মাহিন্দা রাজাপক্ষে। তাতেও জনরোষ কমেনি। রাতে হাজারো বিক্ষোভকারী কলম্বোয় রাজাপক্ষের বাসভবনের মূল ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আটকা পড়েন। পরে মঙ্গলবার ভোরের আলো ফোটার আগেই সেনা পাহারায় কলম্বোর সরকারি বাসভবন ছাড়েন মাহিন্দা রাজাপক্ষে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিঙ্কোমালি শহরে একটি নৌঘাঁটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আশ্রয় নেন তিনি। ওই নৌঘাঁটিও ঘিরে রেখেছেন বিক্ষোভকারীরা।

চলমান বিক্ষোভের লাগাম টানতে গত শুক্রবার শ্রীলঙ্কাজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। চলছে কারফিউ। প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষের পর তাঁর ভাই প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন বিরোধীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে দেশটিতে সেনা মোতায়েন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে রাজধানী কলম্বোয় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার ঘটনার পূর্ণ তদন্ত দাবি করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।