default-image

মিসরের কায়রো ফুটবল স্টেডিয়ামে গতকাল রোববার ফুটবল খেলায় সহিংস ঘটনায় ২২ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ২৫ জন। আজ সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এ কথা জানানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে খবরে জানানো হয়, খেলা দেখতে হাজারো ফুটবল সমর্থক জোর করে স্টেডিয়ামে ঢুকতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সমর্থকদের জটলার উদ্দেশে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় হুড়োহহুড়িতে ভিড়ের মধ্যে পদদলিত হয়ে অনেকে মারা গেছে।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসা প্রতিবেদনের তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, ভিড়ের মধ্যে পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা বেশি ঘটেছে। অনেকে ঘাড়ে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছে। ওই ঘটনায় কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়।
সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতা আরও ছড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে মাঠের খেলা অব্যাহত রাখা হয়। তবে এ ঘটনার পর মিসরের প্রিমিয়ার লিগ স্থগিত করা হয়েছে বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
মিসরের জামালেক ও ইনবির মধ্যে ম্যাচ চলাকালে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। তবে ফুটবল খেলা ঘিরে সহিংসতার ঘটনা মিসরে নতুন কিছু নয়। ২০১২ সালে পোর্টের মাঠে ফুটবল খেলাকে ঘিরে দাঙ্গায় ৭০ জনের বেশি লোক নিহত হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকালকের খেলার সময় দর্শকের সংখ্যা ১০ হাজার নির্ধারণ করে দেয়। দ্রুতই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। তখন হাজার হাজার ভক্ত বিনা টিকিটে স্টেডিয়ামের দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে খেলা দেখার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে যায়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, জামালেক সমর্থকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে আতাশবাজি পোড়াচ্ছিল। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে ও ফাঁকা গুলি চালায়।

মোস্তফা ইব্রাহিম নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ছোট একটু জায়গায় অবস্থান করা বিশালসংখ্যক সমর্থককে লক্ষ্য করে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। লোকজন তখন হুড়োহুড়ি করে বেরোতে চাইলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, নিহত ১৯ জনের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে তাদের কেউ গুলিতে মারা যায়নি। পদদলিত ও ঘাড় ভেঙে বেশির ভাগের মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন