বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি আইসিজের আদেশের ধারাবাহিকতায় এবারও ওই সব আপত্তি নাকচ করা উচিত বলে গাম্বিয়া যুক্তি দিয়েছে। মিয়ানমার প্রাথমিক আপত্তিতে যেসব কারণ দেখিয়েছে সেগুলো হচ্ছে: ১. গাম্বিয়া ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) হয়ে মামলা করায় তা গ্রহণযোগ্য নয় এবং আদালতের এখতিয়ার নেই। ২. গাম্বিয়া মামলা করার অধিকার রাখে না। ৩. ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া কোনো পক্ষ আইসিজের আশ্রয় নিতে পারে না, কেননা মিয়ানমার জাতিসংঘ সনদের ৮ ধারায় সম্মত হয়নি এবং ৪. মামলা করার সময়ে মিয়ানমারের সঙ্গে গাম্বিয়ার কোনো বিরোধ ছিল না বিধায় এই মামলা চলতে পারে না।

গাম্বিয়া গত বছরের এপ্রিলে লিখিতভাবে এসব দাবির দফাওয়ারি অসারতা তুলে ধরে তাদের জবাব পেশ করে, যা গত সোমবার রাতে আইসিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। মিয়ানমারের আপত্তির ওপর শুনানি হচ্ছে হাইব্রিড পদ্ধতিতে, যার কিছুটা আদালতে সশরীর অংশগ্রহণ, আর বাকিটা অনলাইনে।

গাম্বিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে গতকাল আদালতে ছিলেন দেশটির বিচারমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল দাওদা জালো, সলিসিটর জেনারেল হুসেইন থমাসি। আইনজীবীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পল এস রাইখলার, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক ফিলিপ স্যান্ডস, ব্রাসেলসের অধ্যাপক পিয়ের দেজা, নিউইয়র্কের আসলাম সুলেমানসহ আরও কয়েকজন।

দাওদা জালো বলেন, গাম্বিয়া গণহত্যা সনদের স্বাক্ষরদাতা হিসেবে রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধে এই আদালতের আশ্রয় নিয়েছে, কারও প্রতিনিধি (প্রক্সি) হিসেবে নয়।

পল রাইখলার বলেন, আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশ জারির পর মিয়ানমার গত দুই বছরে পরিস্থিতির উন্নয়নে কিছুই করেনি। জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ারের সর্বসাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কাছে রোহিঙ্গা জীবনের কোনো মূল্য নেই, বিশেষ করে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের। আদালতে মিয়ানমার যে প্রাথমিক আবেদন পেশ করেছে, তার উদ্দেশ্য হচ্ছে বিচার বিলম্বিত করা।

আরেকজন আইনজীবী এন্ড্রু লোয়েন্সটেইন বলেন, মিয়ানমার চাইছে গণহত্যার বিচারপ্রার্থী হিসেবে গাম্বিয়ার নাম মুছে দিয়ে সেখানে ওআইসির নাম লিখতে এবং সেই অজুহাতে তারা আদালতের মামলাটি শুনানি করার এখতিয়ারকে চ্যালেঞ্জ করেছে। মিয়ানমারের এই উদ্যোগকে নজিরবিহীন অভিহিত করে তিনি মামলাটি করার বিষয়ে গাম্বিয়া সরকারের ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে বলেন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে গাম্বিয়া এই আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে এবং অন্যদের সহায়তা চেয়েছে।

অধ্যাপক ফিলিপ স্যান্ডস গাম্বিয়ার পক্ষে সমাপনী যুক্তি পেশ করে বলেন, এই মামলার আবেদনকারী গাম্বিয়া ছাড়া আর কেউ নয়, তা সব দিক দিয়ে প্রতিষ্ঠিত। গাম্বিয়া কারও প্রতিনিধি নয়। ক্ষতিগ্রস্তরা কোনো দেশের নাগরিক না হলে সেই দেশের মামলা করার অধিকার নেই—মিয়ানমারের এমন দাবি মানা হলে একটি রাষ্ট্র ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে একটি পুরো জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করে দিলেও বাকি বিশ্বের কিছুই করার থাকবে না।

আগামীকাল শুক্রবার মিয়ানমার দ্বিতীয় দফায় তাদের যুক্তি পেশের মাধ্যমে গাম্বিয়ার বক্তব্যের জবাব দেবে। তারপর ২৮ ফেব্রুয়ারি গাম্বিয়া দ্বিতীয় দফায় তার বক্তব্য তুলে ধরবে।

২০২০ সালে আইসিজে তার অন্তর্বর্তী আদেশে গণহত্যা সনদের আলোকে গাম্বিয়া এবং মিয়ানমারের বিরোধ নিষ্পত্তিতে আদালতের এখতিয়ারের প্রশ্নে মিয়ানমারের আপত্তি নাকচ করে দিয়েছিলেন। গাম্বিয়া ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার প্রতিনিধি (প্রক্সি) হিসেবে মামলা করেছে বলে মিয়ানমারের আপত্তিও তখন খারিজ করে আদালত বলেছিলেন যে গাম্বিয়া তার নিজস্ব পরিচয়েই মামলা করেছে এবং ওআইসিসহ অন্য যেকোনো সংস্থার সহায়তা নেওয়ার অধিকার তার রয়েছে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন