বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পরপরই দেশটির গণতন্ত্রপন্থী জনতা বিক্ষোভ শুরু করে। কোনো কোনো বিক্ষোভে লাখো জনতা অংশ নেয়। তুমুল বিক্ষোভ দমাতে দেশটির সেনাবাহিনী সহিংস দমন–পীড়ন শুরু করে।

পেইংকে এপ্রিলে গ্রেপ্তার করে দেশটির সেনাবাহিনী। এপ্রিলের কোনো একদিন ভোররাতে প্রায় ৫০ জন সেনা ৮টি ট্রাকে গিয়ে পেইংকে গ্রেপ্তার করে। এ তথ্য পেইংয়ের বোন এক ফেসবুক পোস্টে জানান।

পেইংয়ের দুটি মুঠোফোনও সেনারা নিয়ে যান।

পেইংয়ের আইনি পরামর্শক খিন মং মিন্ট বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, তাঁর মক্কেলকে কঠোর শ্রমের সাজা দেওয়া হয়েছে। পেইংয়ের পরিবার এই দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

গ্রেপ্তারের আগে ২৪ বছর বয়সী পেইংকে বেশ কয়েকটি বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়।

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত সরকারের নেতা অং সান সু চির ছবি অনলাইনে পোস্ট করেছিলেন পেইং। ভিন্নমত উসকে দেওয়া ও করোনার বিধিভঙ্গের অভিযোগের মামলায় ইতিমধ্যে সু চিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন জান্তাশাসিত মিয়ানমারের আদালত।

অনলাইনে করা পোস্টে পেইং লিখেছিলেন, ‘আমরা সামরিক অভ্যুত্থানের তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা অবিলম্বে স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি, প্রেসিডেন্ট ইউ উইন মিন্ট, বেসামরিক সরকারের মন্ত্রী ও পার্লামেন্টের নির্বাচিত সদস্যদের মুক্তির দাবি জানাই।’

পেইং আরও লিখেছিলেন, ‘আমরা ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফলকে শ্রদ্ধা জানানোসহ এনএলডির নেতৃত্বাধীন নতুন বেসামরিক সরকার গঠনের দাবি জানাই।’

পেইংয়ের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ১০ লাখের বেশি অনুসারী ছিল। গ্রেপ্তারের পরপরই তাঁর এই অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পেইংয়ের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে আগে বিবিসিকে বলেছিলেন, গ্রেপ্তারের সময় পেইং বিষণ্নতা ও শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। এমনকি তিনি ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারছিলেন না।

সেনাশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পরিণাম সম্পর্কে পেইং সচেতন ছিলেন বলে জানান তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা।

মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সু চি দীর্ঘদিন ধরে লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। জান্তা শাসনের বিরোধিতা করার জন্য তাঁকে বছরের পর বছর গৃহবন্দী থাকতে হয়েছে।

২০১০ সালে সু চি মুক্তি পান। ২০১৫ সালের নির্বাচনে সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ভূমিধস জয় পায়। তাঁর দল সরকার গঠন করে।

গত বছরের নভেম্বরে মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে সু চির দল আবার বড় জয় পায়। কিন্তু দেশটির সেনাবাহিনী সাধারণ নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তোলে। তবে দেশটির নির্বাচন কমিশন সেনাবাহিনীর এ অভিযোগ নাকচ করে দেয়।

এ অজুহাতে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান করে দেশটির সেনাবাহিনী। সামরিক জান্তা সু চিসহ দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করে।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে বিক্ষোভ করে আসছে দেশটির গণতন্ত্রপন্থী জনতা। এ বিক্ষোভে জান্তার হাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন