ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভে পুলিশের ব্যারিকেড।
ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভে পুলিশের ব্যারিকেড। ছবি: এএফপি

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কয়েকজন জেনারেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাজ্য ও কানাডা। এই নিষেধাজ্ঞার পর মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্বের চাপ বেড়েছে। তবে মিয়ানমারের জান্তা সরকার তাদের অবস্থানে অনড়। খবর এএফপির।

ব্রাসেলস থেকে একটি সূত্র জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিয়ানমারে নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে আগামী সোমবার বৈঠকে বসবে। জাপান বলেছে, তারাও মিয়ানমারের কূটনৈতিক চাপ আরোপের পক্ষে।

১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে দেশটির বেশির ভাগ এলাকায় বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়েছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও রাবার বুলেট ছুড়ে তারা বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিলে মিয়ানমারের জান্তা সরকারকে ‘ভয়ানক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘ।

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া সামরিক কর্মকর্তা, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও সেনাবাহিনীসংশ্লিষ্ট ব্যবসায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এক বিলিয়ন ডলারের সরকারি তহবিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যাতে ব্যবহার করতে না পারে, সে জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পর যুক্তরাজ্য স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর তিনজন জেনারেলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। দেশটি জানিয়েছে, ওই তিন জেনারেল বিক্ষোভ দমনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটিয়েছে। যুক্তরাজ্যের সরকার তিন জেনারেলের সম্পদ জব্দ করেছে ও ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। যুক্তরাজ্যের সরকার জান্তা সরকারের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করার কথাও ভাবছে।

কানাডাও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নয়জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কানাডা বলেছে, জান্তা সরকার দমন ও নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। কানাডার পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী মার্ক গারনেউ বলেছেন, কানাডার সরকার গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমারের জনগণের পাশে রয়েছে।

দুই দেশের নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তারা বিয়ার, রত্ন ও ব্যাংক খাতে জান্তা সরকারের লাভজনক ব্যবসায় আঘাত হানার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন।

মিয়ানমারে জান্তা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে মানবাধিকার সংগঠন সিভিল ডিজঅবিডিয়েন্স মুভমেন্ট। সংগঠনটির সক্রিয় কর্মী থিনজার সুনলেই ই গত সোমবার বলেন, ‘আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করছি। জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে আমরা অন্যান্য দেশের প্রতি আহ্বান জানাই।’

মিয়ানমারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী দল নেটব্লকস বলেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেও দেশটিতে কারফিউ জারির মতো পরিস্থিতি ছিল। রাতে সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে এই পরিস্থিতিতেও ইয়াঙ্গুনে সু চির পোস্টার নিয়ে তাঁর মুক্তি দাবিতে শতাধিক মানুষ বিক্ষোভ করেন। মিয়ানমারের প্রত্যন্ত সাগাইং অঞ্চলেও বিক্ষোভ হয়েছে।
তবে বিক্ষোভ সত্ত্বেও ধরপাকড় চালিয়ে যাচ্ছে জান্তা সরকার। অ্যাসিসটেন্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স মনিটরিং গ্রুপ বলছে, ৫২০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১২ জন কর্মকর্তাকে আটকের কথা নিশ্চিত করেছে ওই গ্রুপ।

গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে জান্তা সরকার। আটকের পর থেকে নোবেলজয়ী সু চিকে দেখা যায়নি। অবৈধ ওয়াকিটকি রাখা ও জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থা আইনের ২৫ ধারা অনুসারে সু চির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী মার্চে তাঁর অভিযোগের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন