default-image

সেনাশাসনের বিরুদ্ধে আজ সোমবার উত্তাল ছিল মিয়ানমারের রাজপথ। চলেছে বিক্ষোভ। জান্তা সরকারের গুলিতে আজও দেশটিতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫ বিক্ষোভকারী। তাঁদের মধ্যে তিনজনই নিহত হয়েছেন অন্যতম প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনে। গণমাধ্যমের খবর ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

উইন নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ইয়াঙ্গুনের সাউথ দাগোন জেলায় গতকাল বিক্ষোভকারীদের ব্যারিকেড সরানোর সময় গুলি চালায় পুলিশ। এতে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ইয়াঙ্গুনের অপর একটি অংশে বিক্ষোভকারী ও রেড ক্রসের একটি দল লক্ষ্য করে চালানো গুলিতে নিহত হন আরেকজন।

স্থানীয় ছাত্রনেতা মোয়ে মিন্ট হেইন রয়টার্সকে জানান, আজ মিংইয়ান শহরে জান্তা পুলিশের গুলিতে আরও দুজন নিহত হয়েছেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান হয়েছে। দেশটির নেত্রী অং সান সু চিসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়েছে। এরপর থেকেই ইয়াঙ্গুন, মান্দালয়সহ বিভিন্ন শহরে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। জান্তার চরম দমন-পীড়নের মুখেও বিক্ষোভ চলছে।

বিজ্ঞাপন

প্রায় দুই মাস ধরে চলা বিক্ষোভে গত শনিবার ছিল সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন। এদিন দেশটিতে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপন হয়। রাজধানী নেপিডোতে সেনা কুচকাওয়াজের পর পরই সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে চরম দমনপীড়ন চালায় জান্তা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দেশটিতে ওই এক দিনে শিশুসহ নিহত ব্যক্তির সংখ্যা অন্তত ১১৪-তে দাঁড়িয়েছে।

অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস (এএপিপি) নামের একটি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা জানিয়েছে, গত দুই মাসের বিক্ষোভে মিয়ানমারে ৪৬০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সাংবাদিকসহ আটক হয়েছেন তিন সহস্রাধিক।

এই হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ ও পশ্চিমা দেশগুলো। জাতিসংঘ বলছে, শনিবার জান্তা সরকার নিজেদের শক্তিমত্তার প্রদর্শন করেছে হত্যার মধ্য দিয়ে। আর গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সাংবাদিকদের বলেছেন, অপ্রয়োজনীয়ভাবে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত ভয়ানক।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন