default-image

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থীরা আজ সোমবার নতুন করে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আজ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংযোগস্থলে যানবাহনগুলো যাতে ভেঁপু বাজায়, সে জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় সেসব স্থানে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীরা তিন আঙুল তুলে জান্তাবিরোধী স্যালুট দেবেন।

মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়ন সত্ত্বেও দেশটির গণতন্ত্রপন্থীরা তাঁদের আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।

দেশটিতে সেনাশাসনবিরোধী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে একটি পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী জানিয়েছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার বা আটক হয়েছেন হাজারো মানুষ।

ব্যাপক দমন-পীড়নের মুখে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থীরা প্রতিবাদের নতুন নতুন উপায় বের করে তা পালন করছেন। তার মধ্যে রয়েছে রাত্রিকালীন বা সূর্যোদয়ের আগপর্যন্ত বিক্ষোভ। আছে প্রতিবাদী মোমবাতি প্রজ্বালন। গতকাল রোববার রাত থেকে আজ সোমবার ভোর পর্যন্ত দেশটির একাধিক স্থানে এমন প্রতিবাদী বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। তার আগে শনিবার রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন শহরে এমন কর্মসূচি পালিত হয়। এসব প্রতিবাদে বৌদ্ধভিক্ষুরাও যোগ দিচ্ছেন। তাঁরা মোমবাতি হাতে প্রতিবাদে শামিল হচ্ছেন।

গতকালও দেশটিতে বিক্ষোভকারীদের রক্ত ঝরেছে। এদিন দুই ব্যক্তির নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন মোনায়া শহরে। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে আরেকজন নিহত হয়েছে মানদালয়ে।

বিজ্ঞাপন

প্রাণহানির ঝুঁকি সত্ত্বেও দেশটির গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারীরা দমছেন না। তাঁরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে দেশটির জনসাধারণকে আজকের প্রতিবাদে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে মিয়ানমার সংকটে এশিয়ায় কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এই কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান আজ মিয়ানমার সফর করছেন। তারপর তিনি মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় যাবেন।

জান্তার বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের পাশাপাশি এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার সরব হওয়ার পরই মিয়ানমার সফরে যাচ্ছেন সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মিয়ানমার সংকট নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক চায় ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। এই জোটের সদস্য মিয়ানমার।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান হয়। অং সান সু চির নির্বাচিত সরকার উৎখাত করে দেশটির ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী। তারা এক বছরের জন্য দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করে। একই সঙ্গে সু চিসহ দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। নানা দমন-পীড়ন সত্ত্বেও মিয়ানমারে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে টানা বিক্ষোভ দেখিয়ে আসছেন দেশটির গণতন্ত্রপন্থীরা।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন