default-image

মিয়ানমারের অন্যতম শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী কাচিন ইনডিপেনডেন্স আর্মি (কেআইএ) দাবি করেছে, তাদের গুলিতে জান্তা বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হয়েছে। কাচিন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালিয়ে ফিরে যাওয়ার পথে হেলিকপ্টারটিকে ভূপাতিত করেন বিদ্রোহীরা। কেআইএর একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, মিয়ানমারে প্রত্যন্ত উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে সংখ্যালঘু ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর বিদ্রোহীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর লড়াইয়ের কারণে হাজারো বেসামরিক মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লড়ে আসছেন এসব বিদ্রোহী। তবে গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী দেশটির ক্ষমতা দখল করে নিলে এ লড়াই আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

কেআইএর তথ্য বিভাগের প্রধান নাউ বু বলেন, আজ সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে কাচিন প্রদেশে মোয়েমওক শহরের কাছে এক গ্রামে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করা হয়। রয়টার্সকে ফোনে তিনি বলেন, ‘সকাল আটটা বা নয়টার দিকে ওই এলাকায় বিমান হামলা চালায় সামরিক কাউন্সিল। অভিযানে যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয় এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করে গুলি চালানো হয়। আমরা তাদের পাল্টা জবাব দিই।’

বিজ্ঞাপন

তবে কোন অস্ত্র দিয়ে হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করা হয়, তা বলতে চাননি তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মিজিমা ডেইলি ও কাচিনওয়েবসও সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার খবর দিয়েছে। ধোঁয়া ওড়ার ছবি প্রকাশ করেছে তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা ফোনে রয়টার্সকে বলেন, গ্রামে সামরিক বাহিনীর হামলায় চার ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় হাসপাতালে তাঁরা মারা যান।

সামরিক বাহিনীর অভিযান ও কাচিন বিদ্রোহীদের হামলায় হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার বিষয়ে জান্তা সরকারের এক মুখপাত্রের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে গতকাল রোববারও জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে গুলি চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, এতে আট ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারি থেকে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে দেশটি জুড়ে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে গণতন্ত্রকামী জনতা। অধিকার সংগঠন অ্যাসিসট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স জানিয়েছে, বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এখন পর্যন্ত ৭৬৫ জন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন