মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে বিদ্রোহীদের সঙ্গে কয়েক দিনের প্রচণ্ড লড়াইয়ে ৪৭ জন সেনা নিহত ও ৭৩ জন আহত হয়েছেন। চীন সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় ওই লড়াই হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গতকাল শুক্রবার এ কথা জানিয়েছে। খবর এএফপি ও বিবিসির।
মিয়ানমারের বেশ কয়েকটি সংখ্যালঘু জাতিগত গোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এদের মধ্যে বিদ্রোহে লিপ্ত গোষ্ঠীগুলোকে দমনের জন্য সরকারি বাহিনী তৎপর রয়েছে। তবে ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে লড়াইয়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্রোহীদের সঙ্গে অস্ত্রবিরতি চুক্তি সম্পাদনের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে এসেছে।
গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার পত্রিকা জানায়, শান রাজ্যের কোকাং এলাকায় চীনা নৃগোষ্ঠীর বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই সম্প্রতি নাটকীয় রূপ নিয়েছে। কোকাংয়ের বিদ্রোহীরা স্থানীয় রাজধানী লক্কাই দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করলে সেনাবাহিনী বাধা দেয়। বিদ্রোহীরা বিমানবিধ্বংসী কামানসহ ভারী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করছে।
মিয়ানমারের কোকাং এলাকায় বিদ্রোহীরা প্রায় ছয় বছর ধরে তৎপর রয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, কোকাং বিদ্রোহীদের ২০০ জনের একটি শক্তিশালী দল কংগিয়ান এলাকায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে গত বৃহস্পতিবার হামলা চালায়। পাল্টা জবাব হিসেবে সেনাবাহিনী পাঁচবার বিমান হামলা করে।
মিয়ানমারের বর্তমান সেনানিয়ন্ত্রিত সরকার ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর সংস্কারের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। এসবের মধ্যে জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যকার বিরোধ শেষ করার ব্যাপারটি প্রাধান্য পায়। কিন্তু সামরিক বাহিনী এবং সশস্ত্র জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে লড়াই শান রাজ্যের কয়েকটি অংশ এবং উত্তরাঞ্চলীয় কাচিন রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে অস্ত্রবিরতির লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগ ব্যাহত হচ্ছে।
কাচিন রাজ্যে স্থানীয় বিদ্রোহী এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই শুরু হলে প্রায় এক লাখ মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছে। ১৭ বছরের অস্ত্রবিরতি ভেঙে ২০১১ সালে ওই লড়াই শুরু হয়।
বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার আদায় করা পিছিয়ে থাকা জাতিগত সংখ্যালঘুদের লড়াইয়ের বড় কারণ।

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন