default-image

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর সহিংসতার সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) এখতিয়ারের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন দেশটির আইনজীবীরা। খবর রয়টার্সের।

এদিকে দেশটিতে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে আরও তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মিয়ানমারে জান্তা শাসনের অবসান এবং অং সান সু চিসহ গ্রেপ্তার রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে চলমান বিক্ষোভ দমনে ক্রমেই বেশি সহিংস কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে সেনা ও পুলিশ।

গত কয়েক সপ্তাহে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষ ও সহিংসতায় অন্তত ২২৪ জন নিহত হয়েছেন জানিয়ে মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসিসট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস বলেছে, গতকাল বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ চলাকালে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর ইয়াঙ্গুন এবং অপর দুই শহর মোনিয়া ও ব্যাগোতে তিনজন মারা গেছেন।

মিয়ানমারের অপর একটি মানবাধিকার সংগঠনের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার পর সহিংসতার শিকার হওয়ার আশঙ্কায় দেশটির বিভিন্ন নগর ও প্রান্ত থেকে শত শত মানুষ থাইল্যান্ড সীমান্তে বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। সীমান্তের ওপারে ভারতীয় অংশেও পালিয়ে গেছেন কেউ কেউ।

সম্প্রতি জান্তার পক্ষত্যাগ করা জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিও মোয়ে তুন নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে বলেন, সামরিক অভ্যুত্থান–পরবর্তী সহিংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা যায় কি না, দেশটি থেকে নির্বাসিত হওয়া আইনজীবীদের একটি কমিটি সেই পন্থা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

বিজ্ঞাপন

আইসিসির শরণাপন্ন হওয়া এসব পন্থার একটি হতে পারে জানিয়ে মোয়ে তুন বলেন, ‘আমরা আইসিসির কোনো সদস্যদেশ নই। কিন্তু যা ঘটছে (সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধ), তা আইসিসির কাছে নেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার আমাদের।’

ইতিমধ্যে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা মিয়ানমার থেকে গণতন্ত্রপন্থী আইনজীবীদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া, ধরপাকড় চালানো ও বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের সম্মুখীন করার ব্যাপারে বিদেশি সরকারগুলোর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয় বিবেচনা করা উচিত।

তবে জান্তার একজন মুখপাত্র বলেছেন, শুধু প্রয়োজন হলেই বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ করছে নিরাপত্তা বাহিনী।

মিয়ানমারের অপর একটি মানবাধিকার সংগঠনের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার পর সহিংসতার শিকার হওয়ার আশঙ্কায় দেশটির বিভিন্ন নগর ও প্রান্ত থেকে শত শত মানুষ থাইল্যান্ড সীমান্তে বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। সীমান্তের ওপারে ভারতীয় অংশেও পালিয়ে গেছেন কেউ কেউ।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন