default-image

গত ফেব্রুয়ারি মাসে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের জেনারেলরা ক্ষমতার দখল নিয়েছে। তবে ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। তবে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর হাতে ক্ষমতা যাওয়া এবারই প্রথম নয়। ১৯৬০-এর দশক থেকেই তারা নানাভাবে দেশটির ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছে। কিন্তু লাভ-ক্ষতির হিসাবে এবারে ক্ষমতায় টিকে থাকাটা তাদের জন্য চরম অস্বস্তি বয়ে আনবে বলেই মনে হচ্ছে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের গুরুত্ব বাড়াচ্ছেন। যদিও এর আগের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে কর্তৃত্ববাদী ও দুর্নীতিপরায়ণ সরকারগুলোর সঙ্গে দহরম-মহরম শুরু হয়েছিল। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গড়ে তোলা বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর তা সুদূরপ্রসারী ক্ষত তৈরি করেছে। সেটি অনুধাবন করেই হয়তো বাইডেন এবারের পররাষ্ট্রনীতিতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। আর তাতে মিয়ানমারের সামরিক শাসকেরা পড়তে পারেন বাড়তি ঝামেলায়।

১৯৬২ থেকে শুরু

আলোচনাটা শুরু করা যাক মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে। সামরিক নিয়ন্ত্রণ মিয়ানমারের জনগণের জন্য নতুন কিছু নয়। সেনাবাহিনী ১৯৬২ সাল থেকে দেশটিকে কোনো না কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। ১৯৪৮ সালে দেশটি স্বাধীন হয়। তবে দেশটির বেসামরিক সরকারের শুরুটা স্বস্তির ছিল না। মিয়ানমারের জনপ্রিয় জাতীয়তাবাদী নেতা জেনারেল অং সান (অং সান সু চির পিতা) হত্যার শিকার হয়েছিলেন এর কিছু আগেই। পরবর্তী সময়ে ১৯৪৯ সালে সরকারের সঙ্গে কমিউনিস্ট ও জাতিগত বিদ্রোহী দলসহ বিভিন্ন বিদ্রোহী বাহিনীর গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেখানকার জাতীয় রাজনীতিতে ক্রমশ বিভাজন বাড়তে থাকে। সে সময় সামরিক বাহিনী দেশটিকে একতাবদ্ধ রাখার মতো একমাত্র শক্তি হিসেবে নিজেদের মনে করতে থাকে।

সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা নেওয়া জেনারেল নে উইন দেশটিকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে একটি নতুন মতাদর্শের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ধর্ম ও মার্ক্সবাদকে একসঙ্গে মিশিয়ে তিনি এক নতুন মতাদর্শ প্রচারের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি এর নাম দিয়েছিলেন ‘সমাজতন্ত্রের বার্মিজ পথ’। শুরুতেই তিনি নাগরিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা সীমিত করেন। অর্থনীতির জাতীয়করণ ও কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সরকারের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়েছিল। আবার বেসরকারি প্রণোদনাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এসব দেশটির অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ১৯৮৮ সালে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দেয়। কয়েক সহস্রাধিক বিক্ষোভকারী নে উইনকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলেন। ওই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন অং সানের মেয়ে অং সান সু চি। ওই সময়ই নিজের রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে (এনএলডি) সামনে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। নতুন সাধারণ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৯৯০ সালে আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থান হয়। তখন দেশটিতে ‘শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার’ কথা বলা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

সেনাবাহিনী কেন ক্ষমতা চায়

অনেক কারণের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, শুরু থেকেই সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব এবং তাঁদের পরিবারগুলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে নিজেদের ধনী হওয়ার কাজে ব্যবহার করে আসছে। ফলে যেকোনো গণতান্ত্রিক পরিবর্তন জেনারেলদের সম্পদের পাহাড়কে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে। তাদের মনে ভয়—কোনো নতুন সরকার তাদের দুর্নীতির শাস্তি দিতে পারে, বিদেশি ব্যাংক হিসাবগুলোতে রাখা অর্থের স্থানান্তর দাবি করতে পারে।

এ কারণেই সেনাবাহিনী বিভিন্ন ছদ্মবেশে সব সময় ক্ষমতার বলয়ে থাকতে চেয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১৯৬২ সালে বিপ্লবী কাউন্সিল, ১৯৭৪ সালে বার্মা সমাজতান্ত্রিক প্রোগ্রাম পার্টি, ১৯৮৮ সালে রাজ্য আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার কাউন্সিল এবং ১৯৯৭ ও ২০১০ সালে রাজ্য শান্তি ও উন্নয়ন কমিটির মাধ্যমে সামরিক বাহিনী দেশটির ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করেছে।

মিয়ানমারের দুটি বড় বাণিজ্য সংস্থা মিয়ানমার ইকোনমিক করপোরেশন (এমইসি) ও মিয়ানমার ইকোনমিক হোল্ডিং লিমিটেড (এমইএইচএল) সামরিক মালিকানাধীন। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ২০১১ সালের পর রাজনৈতিক সংস্কারের সময়ে বেসরকারি মালিকানাধীন সংস্থাগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। বড় বড় ব্যবসার লাইসেন্স, জমি ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরে নিয়ন্ত্রণ চলে আসে সামরিক নেতাদের হাতে। মিয়ানমারের সামরিক মালিকানাধীন সংস্থা মদ, তামাক ও ভোগ্যপণ্য থেকে শুরু করে খনি, কলকারখানা, পর্যটন, ভূমি উন্নয়ন এবং টেলিযোগাযোগ খাত পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যবসা ও বিনিয়োগে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

এই বাণিজ্যিক প্রভাব যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য নতুন এক সাংবিধানিক কৌশল নেয় সামরিক বাহিনী। মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সংবিধান কার্যকর হওয়ার পরেও এমন একটি ব্যবস্থা তারা চালু করে, যার মাধ্যমে ভেটো শক্তি ও সংসদীয় আসনের ২৫ শতাংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। এর ফলে তারা যেকোনো সংস্কারকে বাধা দিতে সক্ষম। এনএলডি নেতা অং সান সু চিকে প্রেসিডেন্ট না করার ক্ষেত্রে ওই ভেটো ক্ষমতাই কাজে লাগানো হয়েছিল।

রোহিঙ্গা বিদ্বেষ

২০১৬ সালে সুচির দল নির্বাচনে জয়ী হয়। কিন্তু তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। সেনাবাহিনীর চাপে উইন মিন্টকে প্রেসিডেন্ট করা হয়।

তবে দেশটির জনগণের একটি অংশের কাছে সেনাবাহিনীর কিছু জনপ্রিয়তাও রয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপরে গণহত্যা চালানোর সময় তাদের এই জনপ্রিয়তার মূল মাধ্যম হয়ে ওঠে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা, যারা একটা সময় এই সেনাবাহিনীর হাতেই নির্যাতিত হয়েছিলেন। ২০১৩ সাল থেকে সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য রটাতে থাকে। ফলে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদকে মিয়ানমারের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠার উত্তম ক্ষেত্র তৈরি হয়। ২০১৬ সালে সভা-সমাবেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই সময়ে মিয়ানমারে বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বেড়ে গিয়েছিল। ওই বিদ্বেষমূলক পরিবেশ সামরিক বাহিনীকে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক নৃশংসতার বৈধতা দিতে সহায়তা করেছিল।

বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গা গণহত্যার রাজনৈতিক–অর্থনীতি

রোহিঙ্গা নিধন নিয়ে গঠিত জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেই প্রতিবেদনে মিয়ানমারের অর্থনীতিতে সেনাবাহিনীর গভীরভাবে জড়িয়ে থাকার বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছিল। সেনাবাহিনীর বাণিজ্যিক স্বার্থের এই জাল সব সময় জবাবদিহি এবং তদারকির বাইরে থেকেছে বলে জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ব্যবসা ও মানবাধিকারবিষয়ক উপদেষ্টা মন্টস ফেরার সম্প্রতি কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেছিলেন, ‘সেনাবাহিনী তাদের ব্যবসা থেকে অর্থ নিয়ে গণহত্যার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ করেছিল। এ জন্য তারা প্রতিরক্ষা বাজেটের বরাদ্দের ওপর নির্ভরশীল ছিল না।’

সর্বশেষ নির্বাচনের পরে সেনাবাহিনীর মধ্যে ভয় ঢুকে যায় যে সু চির দল সংবিধানের ওপর ও সংসদে সেনাবাহিনীর আধিপত্য কমিয়ে দিতে পারে। সেটি হলে বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের রাখা অর্থ-সম্পদ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই তারা অনেক রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ করে আবারও রাজনৈতিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছে।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী হয়তো ভেবেছিল, ভারত ও চীনের বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক এবং বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী এই দেশটিতে আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতাকে তারা কাজে লাগাবে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী এবং আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতামূলক সম্পর্ক তাদের বাড়তি সুবিধা দেবে।

মনে রাখতে হবে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী পরিপূর্ণভাবে চীনের প্রতি অনুরাগী নয়। তারা দীর্ঘকাল ধরে সন্দেহ করে আসছে যে মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের সশস্ত্র নৃগোষ্ঠী বিদ্রোহীদের সমর্থন করছে চীন। এ ছাড়া নিকট অতীতে মিয়ানমারে চীনা উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত পশ্চিমা গোষ্ঠীর সঙ্গে চীনের প্রতিযোগিতামূলক সম্পর্ককে মিয়ানমারের জেনারেলরা নিজেদের স্বার্থে এত দিন পর্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহার করে এসেছে।

এবারও চীনা সমর্থনের হিসাব

গণতন্ত্রীকরণের আগে চীনারা মিয়ানমারের জান্তাকে সমর্থন করেছিল। এবারও এই সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। যদিও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও জনগণের কাছে চীনারা খুব বেশি জনপ্রিয় নয়, তা সত্ত্বেও কৌশলগত কারণে উভয় পক্ষই চীনাদের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভকে মিয়ানমারে প্রসারিত করতে সহযোগিতা করেছে। তবে জেনারেলরা চীনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গেও সম্পর্ক ধরে রেখেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০১৯ সালে ভারত থেকে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কিনেছিল মিয়ানমার।

ভূরাজনীতি হয়ে উঠছে জটিল

যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও জাপানের অনানুষ্ঠানিক কৌশলগত সুরক্ষা ফোরাম বা কোয়াডের সঙ্গেও মিয়ানমারের আলোচনা চলছিল। কিন্তু মিয়ানমারে সাম্প্রতিক সেনা অভ্যুত্থান এই কোয়াড সুরক্ষা আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে।

কোয়াডকে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের প্রভাব মোকাবিলায় একটি মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সমস্যা হলো, মিয়ানমারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া এবং ভারত-জাপানের মধ্যে কৌশল ও লক্ষ্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য আছে। যেমন মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফিরে আসার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া, তবে ভারত ও জাপান ততটা আগ্রহী নয়। পরবর্তী সময়ে চীনের পরে মিয়ানমারের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারে পরিণত হয়েছিল ভারত-জাপান। কারণ, দেশ দুটি মিয়ানমারে চীনা প্রভাব হ্রাস করতে চায়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, যদি তা রোহিঙ্গা ও গণতন্ত্র বিসর্জনের মাধ্যমেও আসে, তবে আসুক না! সম্ভবত এ কারণেই ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনে ভারত ও জাপান উভয় দেশই মিয়ানমারে রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের রূপরেখার প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল।

ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন মুলুকে ক্ষমতায় থাকলে নিঃসন্দেহে বলা যেত, জেনারেলরা সহজেই পার পাবে। কিন্তু বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তা হতে দিচ্ছেন না। তিনি সম্প্রতি ভারত ও জাপানকে মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফেরাতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখার পক্ষে নিয়ে এসেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বাইডেনের ফোনালাপের পর, গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, উভয় নেতাই ‘বার্মায় আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অবশ্যই বহাল রাখার’ বিষয়ে একমত হয়েছেন। এরপর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে কোয়াড দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে ৯০ মিনিটের ফোন-সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন শেষে জাপানের পক্ষে জানানো হয়েছিল, সব দেশই মনে করে, যেকোনো মূল্যে মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।

বিপদ টের পেয়ে মিয়ানমারের জেনারেলরা সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের পরপরই নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। বার্তা সংস্থা রয়টার্স মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সেই প্রচেষ্টা আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

সেনা অভ্যুত্থানের পর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমের বিভিন্ন দেশ মিয়ানমারের জেনারেলদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ধারণা করা হচ্ছে, এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সীমিত করার লক্ষ্যেই জেনারেল সাহেবরা অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা করে। তাই বলা যায়, মিয়ানমারের এই অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক-অর্থনীতি জো বাইডেনের বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক কাঠামোকে পুনর্নির্মাণের অভিযানকে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। অবশ্য গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যেও পিছু হটার কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। নিঃসন্দেহে গণতন্ত্র ও কর্তৃত্ববাদের এই গণতান্ত্রিক যুদ্ধই ঠিক করে দেবে ভবিষ্যতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কর্তৃত্ববাদ ও গণতান্ত্রিক প্রভাবের গতিপথ।

l ড. মোবাশ্বার হাসান: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ। অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন