default-image

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ বৃহস্পতিবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্বাহী আদেশ ইতিমধ্যে অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গত ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাইডেন এই প্রথম নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপ প্রয়োগ করলেন।

বাইডেন ঘোষিত এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া সামরিক কর্মকর্তা, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট ব্যবসা।

যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এক বিলিয়ন ডলারের সরকারি তহবিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যাতে ব্যবহার করতে না পারে, সে জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বাইডেন বলেছেন, তাঁর প্রশাসন চলতি সপ্তাহেই নিষেধাজ্ঞার প্রথম লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা কঠোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে যাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্রে মিয়ানমার সরকারের সম্পদ জব্দ করতে যাচ্ছি। তবে স্বাস্থ্যসেবা, সুশীল সমাজসহ যেসব ক্ষেত্রের সঙ্গে মিয়ানমারের জনসাধারণের প্রত্যক্ষ সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার বিষয় জড়িত রয়েছে, সেগুলোর প্রতি আমরা সমর্থন জানাব।’

প্রয়োজনে মিয়ানমারের সেনাশাসকদের বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান বাইডেন।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার দায়ে ইতিমধ্যে মিয়ানমারের বেশ কিছু সামরিক কর্মকর্তাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মিয়ানমারে গণতন্ত্র পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি দেশটির নেত্রী অং সান সু চিসহ বেসামরিক রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন।

বাইডেন বলেন, মিয়ানমারের জনগণ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তাঁদের এ প্রতিবাদ পুরো বিশ্ব দেখছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, মিয়ানমারে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ বাড়ছে। যারা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করছে, তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়। সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান বাইডেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

বিধিনিষেধ, দমন–পীড়ন, গ্রেপ্তার সত্ত্বেও মিয়ানমারে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে টানা বিক্ষোভ-প্রতিবাদ অব্যাহত।

প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়া নারীর অবস্থা মুমূর্ষু। তিনি এখন রাজধানী নেপিডোর একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। এই নারীর বাঁচার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে জানিয়েছেন তাঁর বোন। গত মঙ্গলবার নেপিডোতে বিক্ষোভকালে গুলিতে আহত হন ১৯ বছর বয়সী মিয়া থতে থতে খাইং নামের এই নারী। তাঁর মাথায় গুলি লেগেছে।

এদিনের বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্তিপ্রয়োগে আরও অনেক বিক্ষোভকারী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। তবে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভ দমাতে দেশটির সেনাবাহিনী এখন বিক্ষোভকারীদের বাড়িতে বাড়িতে হানা দিচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করছে।

সবশেষ নির্বাচন কমিশনের জন্য কাজ করা কর্মকর্তা ও স্থানীয় সরকারের বেশ কিছু কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার তথ্য পাওয়া গেছে।

মিয়ানমারে ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থান হয়। এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সেনাবাহিনী। এই সামরিক অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং।

মিয়ানমারে এ অভ্যুত্থানের পেছনে অন্যতম কারণ গত নভেম্বরের নির্বাচন। এ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলে সেনাবাহিনী। তবে দেশটির নির্বাচন কমিশন এ অভিযোগ নাকচ করে। নির্বাচনে কারচুপি হয়নি বলে জানান দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকেরা।

মিয়ানমারের নতুন পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক বছরের জন্য মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারি করে জান্তা সরকার। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয় দেশটির সাবেক জেনারেল মিন্ট সোয়েকে।

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে পরে দেশটির হাজারো মানুষ বিক্ষোভ শুরু করেন। টানা এ বিক্ষোভের পঞ্চম দিন ছিল গতকাল বুধবার।

মিয়ানমারে চলমান বিক্ষোভে মঙ্গলবার শক্তিপ্রয়োগ করে সামরিক জান্তা। এদিন প্রথমে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। পরে চালানো হয় গুলি।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান ও দমন–পীড়নের নিন্দা জানাচ্ছে। তারা মিয়ানমারের রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়ে দেশটির সেনা কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ বাড়িয়ে চলছে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন