default-image

মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত। একই সঙ্গে বিক্ষোভ দমনে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে যাচ্ছে জান্তা সরকার। এরই মধ্যে দেশটিতে আড়াই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। সেনা-পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন প্রায় তিন হাজার বিক্ষোভকারী। তাঁদের মধ্যে ছয় শতাধিক বন্দীকে আজ বুধবার মুক্তি দিয়েছে জান্তা সরকার। এর মধ্য দিয়ে চলমান বিক্ষোভে এই প্রথম জান্তা সরকারের কিছুটা নমনীয় মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আজ সকালে ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগার থেকে আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাগার থেকে অন্তত ১৫টি বাসে করে বন্দীদের বের হতে দেখা গেছে। তাঁদের বেশির ভাগই বয়সে তরুণ।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত টিভি চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে, মুক্তি পাওয়া বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ৬২৮।

বেসরকারি সংগঠন মিয়ানমার’স অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভে দেশটিতে ২৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আটক হয়েছেন ২ হাজার ৮১২ জন। এখনো দুই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী আটক রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মুক্তি পেলেন এপির সাংবাদিক

গত মাসে রাজপথে বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আটক হয়েছিলেন অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) সাংবাদিক থিয়েন ঝাউ। আজ মুক্তি পেয়েছেন তিনি। মিয়ানমারের একটি আদালত তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খারিজ করে বলেছেন, থিয়েন পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আটক হয়েছেন। এরপরই তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে একটি আদালতের বাইরে সংবাদ সংগ্রহের সময় বিবিসি বার্মিজ সার্ভিসের সাংবাদিক অং থুরাকে আটক করা হয়েছিল। তবে আটকের এক দিন পরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকে। এই সময় অং থুরার সঙ্গে আটক হয়েছিলেন আরেক সাংবাদিক থান হিতিক অং। তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মিজ্জিমাতে কাজ করেন। চলতি মাসেই মিজ্জিমার সম্প্রচার অনুমোদন বাতিল করে জান্তা সরকার।

মিয়ানমারে গত ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পর এ পর্যন্ত ৪০ সাংবাদিককে আটক করেছে জান্তা সরকার। তাঁদের বেশির ভাগ এখনো আটক রয়েছেন। এ ছাড়া মিয়ানমারের পাঁচটি গণমাধ্যম কোম্পানির অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন