বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা অনুমান করছে, দুটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির উত্তর পিয়ংইয়ং প্রদেশের উপকূলীয় এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এ এলাকা চীনের সীমান্তবর্তী এলাকা লাগোয়া। ক্ষেপণাস্ত্র ২টি ৪৩০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হেনেছে। এগুলো ৩৬ কিলোমিটার উচ্চতায় উঠেছিল।

এদিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর এ নিয়ে কথা বলেছে জাপানও। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। জাপানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এনএইচকের খবরে বলা হয়েছে, সমুদ্রে জাপানের যে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে, তার বাইরে পড়েছে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো।

এ নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন জাপানের মন্ত্রিসভার মুখ্য সচিব হিরোকাজু মাতসুনো। তিনি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া বারবার যে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে, তারা আমাদের এবং এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।’ এ ছাড়া ইস্যুটি আন্তর্জাতিক মহলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
উত্তর কোরিয়ার এ পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও। দেশটির সামরিক বাহিনীর ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া যে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, তা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য হুমকির কি না, ত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

চলতি বছরের শুরুতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উন বলেছিলেন, দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য এ বছর কাজ করবেন তিনি। কিন্তু নতুন বছর শুরু হওয়ার পর থেকেই একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে দেশটি। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নতুন বছরে এ পর্যন্ত তিন দফা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করল তারা। এর আগের দুই দফার ক্ষেপণাস্ত্র ছিল ‘হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র’।

এদিকে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে জড়িত, এমন পাঁচ উত্তর কোরীয়র ওপর স্থানীয় সময় গত বুধবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি (রাজস্ব) দপ্তর বলছে, ওই পাঁচ ব্যক্তি উত্তর কোরিয়ায় গণবিধ্বংসী অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জন্য সরঞ্জাম সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত।

ট্রেজারি ফর টেররিজম অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্সের আন্ডার সেক্রেটারি ব্রায়ান নেলসন এক বিবৃতিতে বলেন, উত্তর কোরিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি প্রতিরোধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তার অংশ হিসেবে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়া অবৈধভাবে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের জন্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করছে, এমন অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন