default-image

মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) দেশটির সাধারণ নির্বাচনে জয় দাবি করেছে। গতকাল সোমবার দলটির মুখপাত্র এই দাবি করেন। তবে সংঘাতকবলিত রাখাইন রাজ্যে হেরেছে দলটি। সেখানে ভালো ফল করেছে সংখ্যালঘু রাখাইনদের নিয়ে গঠিত রাজনৈতিক দল আরাকান ন্যাশনাল পার্টি (এএনপি)।

গতকাল রোববার সাধারণ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়। তবে রাখাইনের বেশির ভাগ আসনে ভোট বাতিল করা হয়। রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে অং সান সু চির গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের মধ্যে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারলেও বিদেশে সুনামে ধস নেমেছে। আর সেই কারণে এবারের নির্বাচনকে সু চির জন্য গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সু চির দল এনএলডির মুখপাত্র মায়ো নিয়ান্ত সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৩২২টির বেশি আসনে জয় পেয়েছে তাঁর দল। দেশব্যাপী ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত দলের এজেন্টের দেওয়া তথ্যমতে এই খবর পাওয়া গেছে। তবে তিনি প্রাপ্ত আসনসংখ্যা নির্দিষ্ট করতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, ২০১৫ সালে ৩৯০টি আসনে জয় পেয়েছিল তাঁর দল। এবার সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে। এবারও নিরঙ্কুশ জয় পেতে চলছে তাঁর দল।

যদিও নির্বাচন কমিশন থেকে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হয়নি এখনো। গতকাল সোমবারই আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার কথা ছিল।

এনএলডি জয় দাবি করলেও সেনাবাহিনী সমর্থিত দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি নির্বাচনের ফল নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য পৃথক বিবৃতি দিয়ে এই নির্বাচনের প্রশংসা করলেও রাখাইনের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাসহ ১০ লাখের বেশি ভোটারের ভোট বঞ্চিত করার সমালোচনা করেছে তারা।

রাখাইনে হেরেছে সু চির দল

মিয়ানমার টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, অং সান সু চির দল এনএলডি জয় দাবি করলেও রাখাইন রাজ্যের বেশির ভাগ আসনে দলটি হেরেছে জাতিগত সংখ্যালঘু রাখাইনদের দল আরাকান ন্যাশনাল পার্টি (এএনপি) ও আঞ্চলিক দলগুলোর কাছে। রাখাইনে অর্ধেকের বেশি আসনে ভোট গ্রহণ বাতিল হওয়ায় ২৮টি আসনে ভোট হয়। ওই আসনগুলোর বেশির ভাগে জয় পেয়েছে এএনপি ও স্থানীয় আঞ্চলিক দলগুলো। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম দল এএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দাও আই নু সেইন বলেন, এএনপির সদস্যরা কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টের আটটি আসনে আর রাজ্য পার্লামেন্টের ছয়টি আসনে জয়লাভ করেছেন। তিনি বলেন, রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে ভোট বাতিল না হলে আরও বেশি আসন পেত তাঁর দল।

মিয়ানমারে অর্ধশত বছরের বেশি সময় ধরে সেনাবাহিনী ও সেনা-সমর্থিত সরকারের অবসান ঘটিয়ে ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় এনএলডি। একসময় স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে খ্যাতি অর্জন করা সু চি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কার্যত কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েন। এরপরও মিয়ানমারের জনগণের মধ্যে সু চি এখনো জনপ্রিয়। সম্প্রতি জরিপে দেখা গেছে, ৭৫ বছর বয়সী নোবেলজয়ী সু চিকে সবচেয়ে আস্থাভাজন রাজনীতিবিদ হিসেবে এখনো মনে করেন দেশটির ৭৯ শতাংশ মানুষ। মিয়ানমারে ৩ কোটি ৭০ লাখের বেশি নিবন্ধিত ভোটার। তবে দেশটিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এবার ভোটদানের হার কম হতে পারে।

মিয়ানমারের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাব প্রবল। সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্টের ২৫ শতাংশ আসন সেনাসদস্যদের জন্য বরাদ্দ। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর দেখভালও সেনাবাহিনী করে। সু চির সরকার বর্তমান সংবিধান পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। এবারের নির্বাচনে জিতলে সেই প্রচেষ্টা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0