গত জানুয়ারিতে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য পার্লামেন্ট বন্ধ করে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর থেকেই চাপ আরও বাড়ছে। সমালোচকেরা বলছেন, করোনাভাইরাস সমস্যাকে কাজে লাগিয়ে মুহিউদ্দিন ক্ষমতা আঁকড়ে ধরছেন।

গত বৃহস্পতিবার দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউএমএনওর পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। দলটির প্রেসিডেন্ট আহমাদ জাহিদ হামিদি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী নতুন প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করতে মুহিউদ্দিন ইয়াসিনকে সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করার আহ্বান জানাচ্ছে ইউএমএনও।’

আহমাদ জাহিদ হামিদি আরও বলেন, ‘নতুন নির্বাচনের আগে নতুন নেতা ক্রমবর্ধমান ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে দেশ পরিচালনা করবে। জনগণের নির্বাচিত একটি স্থিতিশীল নতুন সরকারকে দেশ পরিচালনা করতে দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ।’

ইউএমএনও নেতারা মুহিউদ্দিনের সরকারের মহামারি মোকাবিলায় ব্যর্থতায় বিভিন্ন ভুল পদক্ষেপের সমালোচনা করেন।

মালয়েশিয়ার জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল পার্টি প্রিবুমি বেরসাতু মালয়েশিয়ার (বেরসাতু) সভাপতি মুহিউদ্দিন। ২০১৬ সালে এর প্রতিষ্ঠা করেন মাহাথির মোহাম্মদ। রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে গত বছর নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন মুহিউদ্দিন। এ জন্য ইউএমএনও এবং পিএসএ নামের দুই দলের সমর্থন পেতে হয় তাঁকে।

মুহিউদ্দিনের ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স জোটের ১১৫ আসনের মধ্যে ইউএমএনওর আছে ৩৮ আসন। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে প্রয়োজন পড়ে ১১২ আসন।

ইউএমএনও দলের মধ্যেও বিভক্তি রয়েছে। জাহিদির পক্ষের সাংসদেরা মুহিউদ্দিনকে পদত্যাগ করতে বললেও কিছু সদস্য তাঁর পক্ষেই রয়েছেন। জাহিদির সমর্থন প্রত্যাহার ঘোষণা দেওয়ার আগেই সমস্যা নিরসনে ইউএমএনওর দুজন সদস্যকে তাঁর মন্ত্রিসভায় পদোন্নতি দিয়েছেন মুহিউদ্দিন।

জাহিদ হামিদি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শাণ দেওয়ার জন্য এবং কোভিড পরিস্থিতি সামাল দিতে গত বছরের মার্চে উমনোর সমর্থন নিয়েই প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন মুহিউদ্দিন। কিন্তু তিনি এসবে ব্যর্থ।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় গত জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে থেমে লকডাউন দিলেও করোনা পরিস্থিতিকে সামাল দেওয়া যায়নি। দেশটির হাসপাতালগুলোর ধারণক্ষমতা ইতিমধ্যেই ছাড়িয়ে গেছে। আর করোনা প্রতিরোধে এই ব্যর্থতাই মুহিউদ্দিনের সরকারকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।