বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আটলান্টিকের উভয় পাশে বিষয়টি নিয়ে একটি আইনগত প্রচার চলছে। এ ক্ষেত্রে দাবি উঠেছে যে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার সময় ব্যবহারকারীদের উসকানিমূলক বিষয়বস্তু ছড়ানোর সুযোগ দেওয়ায় ফেসবুককে দায়ী করে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।

গত ৬ ডিসেম্বর ফেসবুকের লন্ডন কার্যালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই চিঠিতে ফেসবুকের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের আদালতে মামলা করার বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশগুলোতে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের পক্ষে ফেসবুকের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হবে।

একই দিনে ফেসবুকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি মামলা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে এই মামলাটি করা হয়। মামলায় রোহিঙ্গাদের প্রাণহানি, জখম, দুর্দশা, ভোগান্তি, মানসিক যন্ত্রণা, সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির জন্য অন্তত ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে।

মার্কিন ইন্টারনেট কোম্পানিগুলো সাধারণত তাদের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রচারিত বিষয়বস্তুর দায় থেকে রেহাই পেয়ে থাকে। তাই রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে করা মামলায় যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে মিয়ানমারে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার বিচারে মার্কিন আদালতকে অবশ্যই বর্মিজ আইন বিবেচনায় নিতে হবে। এ রকম মামলায় মার্কিন আদালত অবশ্য তাত্ত্বিকভাবে বিদেশি আইন প্রয়োগ করতে পারেন। তবে তার নজির খুবই কম।

মামলাটির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ফেসবুকের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধে তারা আতঙ্কিত।

ফেসবুকে বর্মিজ বিষয়বস্তু মডারেট করার সক্ষমতা উন্নত করারও দাবি করেছে কোম্পানিটি।

default-image

ফেসবুকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

প্রথমটি হলো, ২০১০ সাল থেকে ফেসবুক সক্রিয় ও কার্যকরভাবে তাদের নেটওয়ার্কের সেই সব বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে, যা মিয়ানমারে গণহত্যার উসকানিতে অবদান রাখছিল। যদিও এসব বিষয় সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিল ফেসবুক।

দ্বিতীয়টি হলো, ফেসবুকের অ্যালগরিদম এসব উসকানিমূলক বিষয়বস্তু ছড়ানোর ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করেছিল।

তবে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে এমন কোনো মামলায় বিচারের নজির এখন পর্যন্ত নেই।

অবশ্য এ ঘটনার সঙ্গে একটি দূরবর্তী সাদৃশ্য রয়েছে রেডিও মিলে কলিন্সের। এটি রুয়ান্ডার একটি রেডিও স্টেশন। ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডায় সংঘটিত গণহত্যায় উসকানিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে রেডিও স্টেশনটি। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এই গণহত্যার শিকার হয়, যাদের বেশির ভাগই ছিল সংখ্যালঘু টাট্সি জনগোষ্ঠীর। তখন রেডিও স্টেশনটি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কতিপয় ব্যক্তি পরে গণহত্যায় প্ররোচনার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন।

এখানে ফেসবুকের সঙ্গে রেডিও মিলে কলিন্সের ভূমিকার পার্থক্যটা মূল উদ্দেশ্যে। রেডিও মিলে কলিন্সের প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল গণহত্যায় উসকানি দেওয়া। যাঁরা ওই গণহত্যার আহ্বান জানিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন আন্তর্জাতিক আদালত। কিন্তু রেডিও সরঞ্জাম নির্মাতাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বর্তমান মামলায় যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে যে ফেসবুক একই সঙ্গে উত্পাদক ও কিছু ক্ষেত্রে বার্তাবাহকের কাজ করেছে।

কেননা মানুষ কী দেখবে আর কী দেখবেন না, তা ফেসবুকের অ্যালগিরদমই ঠিক করে দেয়।

ফেসবুকের অ্যালগরিদম যা করে, তার জন্য কোম্পানিটি দায়ী কি না বা কীভাবে দায়ী, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

দ্য ইকোনমিস্ট অবলম্বনে

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন