বিক্ষোভ প্রশমনে রনিল বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিরোধী এই আইনপ্রণেতা এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। এর আগে সহিংস বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে পদত্যাগ করেন।

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সাক্ষাৎকারে রনিল বিক্রমাসিংহে বিবিসিকে বলেন, পরিবারগুলো যাতে দিনে তিন বেলা খেতে পারে, তা নিশ্চিত করবেন তিনি। বিশ্বের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে দুর্ভিক্ষ হবে না, আমরা খাদ্য পাব।’

শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন রনিল বিক্রমাসিংহে। তবে তিনি বলেন, নাগরিকদের প্রতি তাঁর বার্তা—‘ধৈর্য ধরুন, আমি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করব।’

গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের কাছে শপথ নেন রনিল বিক্রমাসিংহে। তবে তাঁর এই নিয়োগে জনগণের বড় অংশই সন্তুষ্ট নয়। কারণ, তাঁকে দেশটির রাজনীতিতে প্রভাবশালী রাজাপক্ষে পরিবারের ঘনিষ্ঠ মনে করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের পদত্যাগ দাবি করা বিক্ষোভকারীদের মনোভাবের সঙ্গে তিনি একমত। তবে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করবেন না। রনিল বিক্রমাসিংহে বলেন, ‘দোষারোপের রাজনীতি কোনো সুফল দেবে না। জনগণ যাতে খেয়েপরে বাঁচতে পারে, সে জন্য আমি আছি।’ রাজাপক্ষে সরকারের সব নীতি পরিবর্তন করতে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্য চেয়ে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক বছরের জন্য আপনাদের সহায়তা আমাদের প্রয়োজন। আমরা যা-ই আপনাদের কাছ থেকে পাব, তা শোধ করে দেব। এ কাজ করতে আমাদের সহায়তা করুন। আমরা এশিয়ার দীর্ঘ সময়ের ও পুরোনো গণতন্ত্রের দেশ।’

শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি বিপর্যস্ত। খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানি হয় পাওয়া যাচ্ছে না অথবা দাম নাগালের বাইরে। সিলিন্ডারে জ্বালানি ভরতে গিয়ে পেট্রল স্টেশনে অপেক্ষমাণ কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছে। ১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর সবচেয়ে মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে দেশটি।

রাজধানী কলম্বোর বাসিন্দা ৬৮ বছর বয়সী এক নারী বলেন, ‘আমাদের কেরোসিন নেই, পেট্রল নেই, ডিজেল নেই। আমাদের রান্না করার গ্যাস নেই। এমনকি আমাদের কাঠে জ্বালানো চুলাও নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে প্রতিদিন আমরা হিমশিম খাচ্ছি। গত কয়েক দিনে খাদ্যপণ্যের দাম তিন গুণ বেড়েছে। আমরা কীভাবে এটা সামাল দেব?’

শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের মূলে রয়েছে ব্যাপকভাবে আমদানিনির্ভরতা। কিন্তু অর্থ পরিশোধে দেশটির প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নেই। করোনা মহামারি এবং ২০১৯ সালে গির্জায় (চার্চ) বোমা হামলার পর পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অবস্থাপনাকেও দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন