ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই এমনই একজন বিক্ষোভকারীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তিনি গতকাল দুপুরে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রবেশ করেন। চলমান বিক্ষোভের মধ্যে পরিবার নিয়ে সেখানে যান তিনি। পরে প্রেসিডেন্ট প্রসাদের ডাইনিং রুমে বসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খান।

এএনআইকে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরা বিদায় নিয়েছেন। এখন সবখানে শান্তি বিরাজ করছে। আমি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে উদ্‌যাপন করতে এখানে (প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে) এসেছি। দুপুরের খাবার খেয়েছি।’

ওই ব্যক্তি আরও বলেন, ‘এবারই প্রথম আমরা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রবেশ করলাম। আমাদের জন্য এটা অনেক বড় একটি সুযোগ। আমি স্ত্রী–সন্তানদের নিয়ে এখানে এসে দুপুরের খাবার খাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। এটা অনেকটাই রাজকীয় আহার ছিল।’

এ সময় অন্য একজন বিক্ষোভকারী এএনআইকে বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ৭৪ বছরে আমাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থাটা দুর্নীতি ও অব্যস্থাপনায় ভরে উঠেছিল। এটা বদলে ফেলার সময় উপস্থিত হয়েছে। বিশেষত দেশের তরুণেরা এই ব্যবস্থা বদলে ফেলতে চেয়েছেন। এটা আমাদের অধিকার।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরও কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সুইমিংপুলে নেমে আপনমনে গা ভিজিয়ে নিচ্ছেন। আনন্দ করছেন। অনেককে বাগানে ঘুরতে, লনে বসে থাকতে দেখা গেছে। বিক্ষোভকারীদের পদচারণ থেকে বাদ যায়নি প্রাসাদের শয়নকক্ষ, রান্নাঘর।

১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে শ্রীলঙ্কা। এরপর সবচেয়ে মারাত্মক আর্থিক সংকট পার করছে দেশটি। কমে এসেছে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। ফলে আমদানি ব্যয় মেটাতে গিয়ে চরম সংকটে পড়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। এ কারণে ২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে খাবার, ওষুধ, জ্বালানির মতো অতি জরুরি আমদানি পণ্যের প্রয়োজন মেটাতে পারছে না।

বর্তমান এই দুরবস্থার জন্য শ্রীলঙ্কার অধিকাংশ মানুষ প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দায়ী করছেন। গত মার্চ থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলছে রাজধানী কলম্বোসহ বিভিন্ন শহরে। শুক্রবার কলম্বোজুড়ে তুমুল বিক্ষোভ হয়। এর ধারাবাহিকতায় শনিবারের বিক্ষোভে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ঢুকে যান বিক্ষোভকারীরা।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন