শ্রীলঙ্কার মন্ত্রিসভায় রাজাপক্ষে পরিবারের প্রভাব অনেক। প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষ ও প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে ছাড়াও পরিবারটি আরও কয়েকজন সদস্য মন্ত্রিসভায় ছিলেন। কিন্তু অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও বিক্ষোভের জেরে সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে তিনজনকে নিজ নিজ পদ থেকে সরানো হয়েছে।

অনেকের মতে, স্বাধীনতার পর শ্রীলঙ্কায় এমন করুণ অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে প্রভাবশালী রাজাপক্ষে পরিবারের ভূমিকা রয়েছে। এ জন্য প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী—দুই ভাইয়ের পদত্যাগের দাবিতে ৯ এপ্রিল থেকে রাজধানী কলম্বোয় প্রেসিডেন্টের দপ্তরের সামনে চলছে টানা বিক্ষোভ।

গতকাল শনিবার এই বিক্ষোভে সমর্থন জানান শ্রীলঙ্কার গণমাধ্যমবিষয়ক মন্ত্রী নালাকা গোদাহেওয়া। তিনি প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। পুলিশের গুলিতে বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের উচিত প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দাকে বরখাস্ত করা। সর্বদলীয় ঐক্যের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা।

সরকার থেকে পদত্যাগ করবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নালাকা গোদাহেওয়া বলেন, তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে তা গ্রহণ করেননি।

সরকার পতনের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা দুলাস আলাহাপেরুমাও। তিনি এর আগে দেশটির গণমাধ্যমবিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। সরকারের মুখপাত্রের দায়িত্বও সামলেছেন দুলাস। গতকাল তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার প্রতি আমার আহ্বান, পার্লামেন্টে এক বছর রয়েছেন, এমন ব্যক্তিদের নিয়ে সব দলের অংশগ্রহণে ছোট আকারের একটি মন্ত্রিসভা গঠন করুন। বর্তমান সরকার সংকট সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে।

অর্থনৈতিক সংকটের জেরে নিত্যপণ্য ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করতে গিয়ে গত মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার মধ্যাঞ্চলীয় রামবুক্কানা শহরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন চামিন্ডা লক্ষ্মণ। গতকাল ছিল ৪২ বছরের চামিন্ডা লক্ষ্মণের শেষকৃত্য। এ আয়োজন ঘিরে আরও বিক্ষোভের আশঙ্কায় শহরটিতে সেনা মোতায়েন করেছেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে। দেশটিতে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।

শ্রীলঙ্কার অর্থমন্ত্রী আলি সাবরি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন সফর করছেন। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে জরুরি অর্থসহায়তা চেয়েছেন। সাংবাদিকদের সাবরি বলেন, আগামী দিনগুলোয় দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপ রাষ্ট্রটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও করুণ হতে পারে। তার আগেই শ্রীলঙ্কার জরুরি অর্থসহায়তা প্রয়োজন।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন