বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রেসিডেন্টের অভিশংসন

শ্রীলঙ্কার সংবিধান অনুসারে, প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দেওয়া কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। এর জন্য প্রথমে প্রেসিডেন্টকে পদের জন্য অযোগ্য দেখিয়ে পার্লামেন্টে এক-তৃতীয়াংশের ভোটে একটি প্রস্তাব পাস করতে হবে। এরপর তা সুপ্রিম কোর্ট তদন্ত করে দেখবেন। অভিযোগের বিষয়ে আদালত সম্মত হলে এ নিয়ে আবার ভোটাভুটি হবে। তবে বর্তমানে শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাসীন ফ্রন্ট পার্টির দাবি, পার্লামেন্টে এখনো তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। গত সপ্তাহে পার্লামেন্টে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনে তারা এর প্রমাণ দিয়েছে। গত কয়েক দিনের বিক্ষোভে রাজাপক্ষে পরিবার–সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদদের ঘরবাড়ি যেভাবে জ্বালানো হয়েছে এবং একজন রাজনীতিবিদের মৃত্যুর ঘটনার পর তাদের এ দাবি কতটা খাটে, তা এখন দেখার বিষয়।

default-image

বিরোধীদের নিয়ে ঐক্যের সরকার

ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষেকে সরিয়ে নতুন চাল দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া। তিনি এখন সব পক্ষকে নিয়ে ঐক্যের সরকার গড়তে চান। তবে প্রধান বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বারবার এ প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট তাঁর হাতে বিশাল ক্ষমতা রেখে দিচ্ছেন। এদিকে দেশটির প্রভাবশালী বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ১৮ মাসের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আইনজীবীরা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কমাতে সাংবিধানিক পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। তবে যে সরকারই আসুক না কেন, তাদের যদি ব্যাপক সমর্থন না থাকে, তবে স্থিতিশীলতা অর্জন করা কঠিন হবে।

পার্লামেন্টের বিলুপ্তি, নতুন নির্বাচন

এখন প্রেসিডেন্ট চাইলে পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করে নতুন নির্বাচন দিতে পারেন। তবে সংবিধান অনুযায়ী, পাঁচ বছরের সরকারের মেয়াদের অর্ধেক সময় পূর্ণ না হলে পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করা যায় না। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা সম্ভব। তবে পার্লামেন্টে প্রস্তাব এনে আগেই বিলুপ্ত করে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু বিরোধীরা এ প্রস্তাবে রাজি নন। কারণ, নির্বাচন ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। বিরোধী দল নির্বাচনে জিতলেও মূল ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের কাছেই থাকবে। তিনি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ, মন্ত্রীদের বরখাস্ত করার মতো ক্ষমতার অধিকারী। যেকোনো মন্ত্রণালয়ও তিনি নিজের অধীনে রাখতে পারেন। এ কারণে নির্বাচনের আগেই প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা খর্ব করতে চান বিরোধীরা। এর আগে মাহিন্দার সরকারও প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কমিয়ে আনার একটি বিল আনতে চেয়েছিল। সংবিধান পরিবর্তন করতে হলে বিরোধীদের দুই–তৃতীয়াংশ আসনে জিততে হবে। এরপর তা সুপ্রিম কোর্টের অধীনে যাবে। পুরো বিষয়টি সময়সাপেক্ষ।

পদত্যাগ করে প্রেসিডেন্টের দেশত্যাগ

শ্রীলঙ্কার জন্য আরেকটি সম্ভাব্য পথ হচ্ছে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ ও দেশ ছেড়ে যাওয়া। সহিংসতা বেড়ে গেলে এ বিকল্পটিও রয়েছে প্রেসিডেন্টের হাতে। গোতাবায়ার পদত্যাগের পরপরই যে–ই প্রধানমন্ত্রী হোন না কেন, দ্রুতই ক্ষমতা দখল করবেন। এক মাসের মধ্যে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভেরাইট রিসার্চের নির্বাহী পরিচালক নিশান ডি মেল বলেছেন, গোতাবায়ার কাছে তিনটি প্রধান বিকল্প রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে পদত্যাগ, অভিশংসন ও ক্ষমতা কমিয়ে সমঝোতা। তিনি তিনটি বিকল্পই মোকাবিলা করছেন।

default-image

সামরিক অভ্যুত্থান

শ্রীলঙ্কায় কর্তৃত্ববাদী শাসনের ইতিহাস রয়েছে। তবে কেউ যদি অভ্যুত্থান করে, তাহলে সম্ভবত তাতে রাজাপক্ষেদের সহায়তা করা হবে। গত ১৭ বছরের মধ্যে ১৩ বছরই রাজাপক্ষেরা দেশ শাসন করেছেন। গোতাবায়াকে দেশটিতে ২৬ বছর ধরে চলা তামিল বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সমাপ্তি টানার জন্য কৃতিত্ব দেওয়া হয়। তিনি দুই ডজনের বেশি কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছেন। গোতাবায়ার শীর্ষ মিত্রের মধ্যে রয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল শাভেন্দ্র সিলভা ও প্রতিরক্ষাসচিব কামাল গুনারত্নে। এই দুই কর্মকর্তার ওপরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শাভেন্দ্র সিলভা বিদেশি কূটনীতিকদের বলেছেন, দেশটির সংবিধান সমুন্নত রাখতে এবং দেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় তাঁরা প্রস্তুত রয়েছেন। বর্তমানে গোতাবায়া দেশটির সেনাবাহিনীকে জরুরি ক্ষমতা দিয়ে রেখেছেন।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন