default-image

মিয়ানমারে পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য দেশটির নেত্রী অং সান সু চির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) পার্লামেন্টে যথেষ্ট আসন পেয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

মিয়ানমারে গত রোববার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আজ শুক্রবার পর্যন্ত প্রকাশিত সরকারি ফলাফল অনুযায়ী এনএলডি ৩৪৬ আসন পেয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৩২২ আসন। এর ফলে এনএলডি পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত ৪১২ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। আরও ৬৪টি আসনের ফল ঘোষণা এখনো বাকি।

বিজ্ঞাপন

এনএলডি বলছে, সর্বশেষ এই সাধারণ নির্বাচনে তারা আগেরবারের চেয়েও ভালো করেছে। ২০১৫ সালে ৩৯০টি আসনে জয় পেয়েছিল এনএলডি। এবার তারা ৩৯০টি আসনের রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছে।

আগে রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির সাধারণ নির্বাচনে এনএলডি বড় জয় পেলেও সংঘাতকবলিত রাখাইন রাজ্যে হেরেছে দলটি। সেখানে ভালো ফল করেছে সংখ্যালঘু রাখাইনদের নিয়ে গঠিত রাজনৈতিক দল আরাকান ন্যাশনাল পার্টি (এএনপি)।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য পৃথক বিবৃতি দিয়ে এই নির্বাচনের প্রশংসা করলেও রাখাইনের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাসহ ১০ লাখের বেশি ভোটারকে ভোটবঞ্চিত করার সমালোচনা করেছে।

মিয়ানমারে অর্ধশত বছরের বেশি সময় ধরে সেনাবাহিনী ও সেনা-সমর্থিত সরকারের অবসান ঘটিয়ে ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় এনএলডি। একসময় স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে খ্যাতি অর্জন করা সু চি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কার্যত কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েন। তারপরও মিয়ানমারের জনগণের মধ্যে সু চি এখনো জনপ্রিয়।

মিয়ানমারের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাব প্রবল। সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের ২৫ শতাংশ আসন সেনাসদস্যদের জন্য বরাদ্দ। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর দেখভালও সেনাবাহিনী করে। সু চির সরকার বর্তমান সংবিধান পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।

মন্তব্য পড়ুন 0