বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সলোমন দ্বীপপুঞ্জ থেকে এএফপির প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আজ শুক্রবার হোয়াইট হাইসের একটি প্রতিনিধিদল ওশেনিয়ার দেশ সলোমন দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছেছে। রাজধানী হোনিয়ারার বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তাদের একটি সাদা মিনিবাসে করে শহরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। অন্যদিকে একই দিন চীনা রাষ্ট্রদূত লি মিংও হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধিদলের কাছাকাছিই ছিলেন। তিনি তখন প্রধানমন্ত্রী মানাসেহ সোগাভারের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে ছিলেন। অনুষ্ঠানটি ছিল চীনের পক্ষ থেকে একটি ‘রানিং ট্র্যাক’ হস্তান্তরের।

এটা চীনের অর্থায়নে নির্মিত ন্যাশনাল স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সের অংশ। জানা গেছে, এই কমপ্লেক্স তৈরিতে ৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার খরচ হয়েছে। ২০২৩ সালে এই কমপ্লেক্সেই প্রথমবারের মতো প্যাসিফিক গেমস আয়োজন করবে দেশটি।

দেশটিতে চীনের সাম্প্রতিক বিনিয়োগ নিয়ে সলোমনে চীনের রাষ্ট্রদূত লি মিং বলেন, ‘চীনের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আমরা সলোমন দ্বীপপুঞ্জের সরকারকে অভিনন্দন জানাতে চাই।’

চীনের সঙ্গে করা এ চুক্তির একটি খসড়া গত মাসে ফাঁস হলে পুরো অঞ্চলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে খসড়ায় সলোমন দ্বীপপুঞ্জে চীনের নৌবাহিনী মোতায়েনের কথা থাকায় বিষয়টি এত গুরুত্ব পায়। চুক্তিটি ঠেকাতে কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। সলোমন থেকে অস্ট্রেলিয়ার দূরত্ব দুই হাজার কিলোমিটারের কম।

‘স্বচ্ছতার অভাব’

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বন্ধন, নিরাপত্তা ও শান্তি বাজায় রাখতে এ সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি কূটনীতিক দল ফিজি, পাপুয়া নিউ গিনি ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জ সফর করছে। তবে চীন ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জের নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের এই তৎপরতায় অনেকে দেরি হয়ে গেছে।

এ সপ্তাহে ওই চুক্তি প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা চুক্তিতে স্বচ্ছতার অভাব ও সুনির্দিষ্ট ধরন না থাকায় উদ্বিগ্ন।’
যদিও প্রধানমন্ত্রী মানাসেহ সোগাভারে ওয়াশিংটন ও ক্যানবেরার উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, এই চুক্তির ফলে সলোমনে চীনা সামরিক ঘাঁটি তৈরি হবে না।

তবে মানাসেহর কথা অস্ট্রেলিয়ান প্রধানমন্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। প্রশান্ত মহাসাগরে চীনা প্রভাব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গতকাল স্কট মরিসন সাংবাদিকদের বলেন, বেইজিং প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্রের নেতাদের ওপর ‘প্রচণ্ড চাপ’ তৈরি করছে।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজান উল্টো অস্ট্রেলিয়ান রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে এই অঞ্চলে ‘জবরদস্তিমূলক কূটনীতি’র অভিযোগ করেছেন। তিনি সলোমন দ্বীপপুঞ্জে পশ্চিমা দেশগুলোর তৎপরতাকে একটি দেশের অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপের সঙ্গে তুলনা করেন।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন