সিরিয়ায় হামলার প্রভাব পড়বে মস্কোয়

বিজ্ঞাপন
default-image

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা শেষ পর্যন্ত গত শুক্রবার রাতে সিরিয়ায় হামলা চালায়। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদের সরকার যাতে আর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করতে না পারে, সে উদ্দেশ্যে এই হামলা বলে পশ্চিমাদের ভাষ্য।

উদ্দেশ্য যা-ই হোক না কেন, এই হামলার সত্যিকারের প্রভাব দেখা যাবে মস্কোয়। বিশেষ করে মস্কোর সঙ্গে পশ্চিমাদের সম্পর্কতে।

৭ এপ্রিল সিরিয়ার দুমায় কী ঘটেছে, আর তার জন্য কে দায়ী—এ নিয়ে শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ চলে আসছে। এ ক্ষেত্রে উভয় দেশের ভাষা ছিল দায়িত্বহীন। ফলে দেশ দুটির সম্পর্ক স্মরণকালের মধ্যে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাখঢাক রাখেননি। তিনি সরাসরি রাশিয়ার নাম উচ্চারণ করে বেশ কড়া ভাষায় দুমার ঘটনায় মস্কোকেও দায়ী করেছেন।

দুমায় হামলার জবাব কী হবে, সে প্রসঙ্গে একটি টুইটে ট্রাম্প বলেন, ‘রাশিয়া বলেছে, সিরিয়ার দিকে মিসাইল পাঠালে তা ভূপাতিত করা হবে। প্রস্তুত হয়ে যাও রাশিয়া। কারণ, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আসছে। তারা সুন্দর, নতুন আর আধুনিক।’

অন্যদিকে রাশিয়া দাবি করে, দুমায় কোনো রাসায়নিক হামলাই হয়নি। বরং যুক্তরাজ্যের পরিকল্পনায় এই হামলার ঘটনা মঞ্চস্থ করা হয়েছে।

রাশিয়াও যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অতীতে পশ্চিমা হস্তক্ষেপের ফল কী হয়েছে, তাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ী হলে মস্কো খুশি হয়েছিল। ট্রাম্পও রাশিয়ার সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু এখন তা হতাশায় পর্যবসিত হয়েছে বলেই মনে হয়।

সিরিয়া বিষয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন। তা সত্ত্বেও জি-২০ সম্মেলনের সময় দুই দেশ কিছু বিষয়ে একমত হয়েছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পুরোই উল্টো।

সিরিয়া বিষয়ে জাতিসংঘে দুই দেশের বাদানুবাদ ছিল লক্ষ করার মতো। এক দেশ আরেক দেশকে ছেড়ে কথা বলেনি।

এদিকে ট্রাম্পের হবু পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সম্প্রতি রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাশিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নরম মনোভাব থাকবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আবার রাশিয়ার কূটনীতিক বহিষ্কারের ঘটনাও ঘটেছে। এ বিষয়গুলো দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে। আর সবশেষ সিরিয়ায় হামলার ঘটনা মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার বৈরিতাকে আরও বাড়িয়ে দেবে।

সিএনএন অবলম্বনে

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন