সিরিয়ায় হামলা: বোনকে বাঁচাতে বোনের আকুতি

বিজ্ঞাপন
default-image

সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ইদলিবের তিন শহরে গত বুধবার ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে সরকার ও মিত্র রাশিয়া। সেই বোমায় আরিহা শহরের একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকা পড়া তিন বোনের একটি ছবি ‘ভাইরাল’ হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ছবিতে পাঁচ বছর বয়সী একটি ছোট্ট শিশু রিহাম তার চেয়ে আরও ছোট মাত্র সাত মাস বয়সী আরেক বোন তৌকাকে বাঁচাতে তার জামা শক্ত করে ধরে রয়েছে। যে বোনটিকে বাঁচাতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করেছিল, সে বেঁচে গিয়েছে। অথচ রিহামকে বাঁচানো যায়নি। এই ছবি চলমান সিরিয়া যুদ্ধ নিয়ে বিশ্ববিবেককে আরও একবার নাড়িয়ে দিয়েছে।

পরিবারের সবার ছোট সদস্যটিকে বাঁচাতে দুই শিশুর এই প্রাণান্ত চেষ্টাটি ক্যামেরায় ধরেছেন স্থানীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম এসওয়াই২৪-এর আলোকচিত্রী বাশার আল-শেখ। বুধবার বিমান হামলার কিছুক্ষণ পরই ছবিটি তোলেন তিনি। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, ইট-পাথর-সুরকির মধ্যে আটকা পড়া দুই মেয়েশিশু। নিচে ঝুলছে তাদের সাত মাস বয়সী বোন তৌকা। এক বোন রিহাম, যার নিজের বয়সও মাত্র পাঁচ বছর, সবার ছোট বোনটির সবুজ টি-শার্ট শক্ত করে ধরে রয়েছে, যাতে সে নিচে পড়ে না যায়। পেছনে তাদের বাবা আমজাদ আল-আবদুল্লাহকে দেখা যাচ্ছে, যিনি কিছুক্ষণ আগেই তাঁর স্ত্রী ও আরেক মেয়েকে নিহত হতে দেখেছেন চোখের সামনে, তাঁর ছোট্ট মেয়েদের বাঁচাতে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ওপর থেকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এই ছবির পেছনের গল্প নাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বহৃদয়।

আলোকচিত্রী বাশার আল-শেখ বলেন, তিনি প্রথমে কিছুই দেখতে পাননি। পরে মেয়েদের ও তাদের বাবার চিৎকার শুনে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যেতেই এই মর্মান্তিক দৃশ্য চোখে পড়ে তাঁর। ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়া তিন শিশুকে হোয়াইট হেলমেট উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়েছিল। কিন্তু রিহাম সেখানে মারা যায়। বুকে ও পাকস্থলীতে গুরুতর জখম হয়েছিল তার। সাত মাস বয়সী সবার ছোট তৌকা মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছে। সে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছে। তৃতীয় বোন ডালিয়ার বুকে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বাড়িটিতে আমজাদ আল-আবদুল্লাহ তাঁর স্ত্রী আসমা নাকুল ও ছয় মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন। বুধবারের হামলায় স্ত্রী আসমা ও আরেক মেয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। অপর এক মেয়ে রোয়ানে (৩) গত শুক্রবার হাসপাতালে মারা গেছে।

এর আগে যুদ্ধের কারণে সিরিয়া ছেড়ে পালানোর সময় সাগরে লাশ হয়েছিল শিশু আয়লান কুর্দি (৩)। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে তুরস্কের উপকূলে ভেসে ওঠা তার লাশের ছবি সিরিয়া যুদ্ধ নিয়ে বিশ্ববিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল। বিশ্বনেতারা তখন সিরিয়ার শরণার্থী সংকট সমাধানে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দিয়েছিলেন। এর পরের বছরই সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোতে হামলায় আহত আরেক শিশু ওমরান দাকনিশের (৫) অ্যাম্বুলেন্সের পেছনে বসে থাকা রক্তাক্ত ও হতভম্ব ছবি বিশ্বে তোলপাড় ফেলেছিল। এরপরও সিরিয়ায় বেসামরিক নাগরিক হত্যা থামছে না।

আট বছর ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন