বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মিয়ানমারে গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। গ্রেপ্তার করা হয় অং সান সু চিসহ তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) শীর্ষ নেতাদের। তখন থেকে ৭৬ বছর বয়সী সু চিকে গৃহবন্দী রাখা হয়েছে। এরপর আদালতে হাজিরা দেওয়ার সময় খুবই অল্প সময়ের জন্য প্রকাশ্যে দেখা গেছে তাঁকে। তবে এ নেত্রীর পক্ষ থেকে তখন কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সেনা মুখপাত্র মেজর জেনারেল জ মিন তুনের দাবি, সু চি ভালো আছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তাঁকে (সু চিকে) বন্দী করলেও বাড়িতে আপনজনদের মধ্যে থাকার সুযোগ দিয়েছি। তিনি তো গৃহবন্দী আছেন।’

ঔপনিবেশিক যুগের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন ভঙ্গের দায়ে সু চির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। দুর্নীতি ও অবৈধভাবে ওয়াকিটকি রাখার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁকে মুক্তি দেওয়ার জন্য মিয়ানমারের সেনা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে জাতিসংঘ।

অভ্যুত্থানের পর থেকে বেশ কয়েক সাংবাদিকসহ হাজারো মানুষকে আটক রাখা হয়েছে। গতকাল সোমবার মিয়ানমারে কারাবন্দী মার্কিন সাংবাদিক ড্যানি ফেনস্টারকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ইয়াঙ্গুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত মে মাসে আটকের পর থেকে ১৭৬ দিন কারাগারে ছিলেন ফেনস্টার। অভিবাসন আইন লঙ্ঘন, বেআইনি সংঘ ও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ভিন্নমত তৈরিতে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল তাঁকে। ১১ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছিল। তবে শুরু থেকেই ফেনস্টারকে মুক্তি দেওয়ার জন্য মিয়ানমারকে চাপ দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে কথা বলেন জ মিন তুন। তিনি দাবি করেছেন, ফেনস্টারকে মুক্তি দেওয়ার সদিচ্ছা ছিল তাঁদের। কোনো শর্ত সাপেক্ষে ফেনস্টারকে মুক্তি দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন এই সেনা কর্মকর্তা।

মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারসের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর কমপক্ষে ৭ হাজার ২৯১ জনকে গ্রেপ্তার, অভিযোগ গঠন কিংবা সাজা দেওয়া হয়েছে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন