default-image

মিয়ানমারে আটক নেত্রী অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) সু চিসহ আটক অন্য নেতাদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের এক দিন পর আজ মঙ্গলবার দলটি এ আহ্বান জানায়।

এনএলডির একজন এমপি এই পরিস্থিতিকে ‘উন্মুক্ত বাতাসে বন্দী দশা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি টেলিফোনে এএফপির সঙ্গে বলেন। তবে সামরিক বাহিনীর ভয়ে নাম প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাইরে যাওয়ার অনুমতি নেই। আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’

ভয় সত্ত্বেও দলটি তাদের ফেসবুক পেজে এক বার্তায় এ আহ্বান জানায়। সেখানে আরও বলা হয়, ‘এই ঘটনা দেশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর ইতিহাসে এক কলঙ্ক হয়ে থাকবে।’ ‘একই সঙ্গে আমরা ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনের ফল মেনে নিতে সেনাবাহিনীর প্রতি দাবি জানাচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন

মিয়ানমারে গতকাল সোমবার রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে দেশটির সেনাবাহিনী। তার আগে তারা মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি ও তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) শীর্ষ নেতাদের আটক করে।

এই নেতা এএফপিকে বলেন, সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট গৃহবন্দী অবস্থায় আছে। তবে তাঁদের কোথায় রাখা হয়েছে, তা পরিষ্কার নয়।

জনগণের ভোটে নির্বাচিত সু চির সরকার উৎখাতের পর মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং সব ক্ষমতা গ্রহণ করেন। সামরিক বাহিনী দেশটিতে এক বছরের জরুরি অবস্থা জারি করে।

এরই মধ্যে মিয়ানমারে রাজনীতিকদের আটক ও সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বনেতারা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা-সংগঠনও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।

মিয়ানমারে গত নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে সু চির দল এনএলডি ফের বড় জয় পায়। নির্বাচনে সু চির দল ৮৩ শতাংশ ভোট পেয়ে ৩৯৬টি আসন পায়। আর পার্লামেন্টের ৪৭৬টি আসনের মধ্যে সেনাসমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি পায় মাত্র ৩৩টি আসন। এই নির্বাচনের ফল ঘিরে সংকট ঘনীভূত হয়। সেনাবাহিনী ও ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি নির্বাচনের পর থেকেই ভোটে কারচুপির অভিযোগ তোলে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার দেশটির নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ নাকচ করে। গতকাল মিয়ানমারের নবনির্বাচিত পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন বসার কথা ছিল। তার কয়েক ঘণ্টা আগে দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে।

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন