default-image

মহড়ায় গিয়ে ডুবে যাওয়া ইন্দোনেশিয়ার সাবমেরিনটির ৫৩ জন নাবিকের সবাই মারা গেছেন। দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, ইন্দোনেশিয়ার সেনাপ্রধান এয়ার মার্শাল হাদি তিজাহজানতো আজ রোববার বলেন, কেআরআই নানগালা-৪০২ নামের সাবমেরিনটির ৫৩ নাবিক মারা গেছেন।

গত বুধবার বালি দ্বীপের কাছে মহড়ার সময় ৪৪ বছরের পুরোনো এ সাবমেরিনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় এতে ৫৩ নাবিক ছিলেন। ইন্দোনেশিয়ার অন্তত ৬টি যুদ্ধজাহাজ, ১টি হেলিকপ্টার ও ৪০০ মানুষ নিখোঁজ সাবমেরিনটি অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেন। সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর।

ব্যাপক তল্লাশির পর নিখোঁজ হওয়ার তিন দিনের মাথায় সাবমেরিনটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়। লুব্রিকেন্টের একটি বোতল, টর্পেডোর সুরক্ষার একটি যন্ত্রসহ ধ্বংসাবশেষের ছয়টি টুকরা সাংবাদিকদের সামনে হাজির করে ইন্দোনেশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে সাবমেরিনটি ডুবে যাওয়ার ঘোষণা দেয় দেশটি।
ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর চিফ অব স্টাফ উইদো মারগোনো জানান, সিঙ্গাপুরের পাঠানো একটি উদ্ধারকারী যান পানির ২ হাজার ৬০০ ফুট নিচে নিখোঁজ সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষের ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছে। এটি তিন টুকরা হয়ে ভেঙে গেছে।

বিজ্ঞাপন

সাবমেরিনটির নোঙর ও নাবিকদের নিরাপত্তা পোশাক উদ্ধার হয়েছে।
নাবিকদের প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত টিকে থাকার মতো পর্যাপ্ত অক্সিজেন ছিল সাবমেরিনটিতে। শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটা পর্যন্ত অক্সিজেনের ঘাটতি হওয়ার কথা ছিল না তাঁদের। কিন্তু এ সময়সীমা পার হওয়ায় নাবিকদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা দেখছিলেন না কেউ। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, তাঁরা সবাই মারা গেছেন। নাবিকদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো।

ইন্দোনেশিয়ার নৌবহরে পাঁচটি সাবমেরিন ছিল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, সত্তরেরর দশকের দিকে কেআরআই নানগালা-৪০২ সাবমেরিনটি তৈরি হয়েছিল। ২০১২ সালের আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই বছর ধরে এটি মেরামত করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় সাবমেরিন ডুবে যাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন