default-image

সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়ার পক্ষে আন্দোলন করেছিলেন লুজাইন আল-হাতলুল। দেশটিতে দশকের পর দশক ধরে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু নারীর অধিকার নিয়ে সোচ্চার লুজাইনের আন্দোলন বিফলে যায়নি। ২০১৮ সালে সৌদি আরবের নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকার মেলে।

কিন্তু খেসারত দিতে হয় অধিকারকর্মী ৩১ বছর বয়সী লুজাইনকে। ওই বছরের মে মাসে কয়েক ডজন নারী অধিকারকর্মীর সঙ্গে তাঁকে আটক করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সৌদি আরবের নানা সমালোচনা হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন লুজাইন। এক হাজার এক দিন কারাগারে থাকার পর কারামুক্তি মিলেছে তাঁর। রিয়াদের এক বিচারকের অনুমোদনের পর বুধবার বিকেলে কারাগার থেকে ছাড়া পান তিনি। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সৌদি আরবের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি নতুন করে মার্কিন চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপ চোখে পড়ছে। লুজাইনের মুক্তি সেই পদক্ষেপগুলোর একটি। লুজাইনকে মুক্তির বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে। বলা হচ্ছে, এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাঁকে কারাগারে পাঠানো কখনোই উচিত ছিল না।

লুজাইনের মুক্তির বিষয়টি অবশ্য একেবারেই শর্তহীন নয়। তাঁকে সৌদি আরব ছেড়ে না যাওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে। শর্ত ভঙ্গ করলে তাঁর কারাদণ্ড পুনর্বহাল করা হতে পারে। লুজাইনের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আদালত তাঁকে পাঁচ বছরের ভ্রমণনিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।

লুজাইনের মুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা কর্মসূচি চালাচ্ছেন তাঁর বোন লিনা আল-হাতলুল। তিনি টুইটারে লিখেছেন, ‘লুজাইন বাড়িতে। ১০০১ দিন কারাগারে কাটিয়ে বাড়িতে এসেছেন তিনি।’ লিনার ভাষ্য, ‘লুজাইন বাড়িতে এলেও তিনি মুক্ত নন। লড়াই এখনো শেষ হয়নি।’

লুজাইনের পরিবারের পক্ষ থেকে কারগারে তাঁর ওপর যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হলেও আদালত তা খারিজ করে দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছেন, ‘নারী অধিকার এবং অন্যান্য মানবাধিকারের জন্য প্রচার ও পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য কখনো অপরাধী করা উচিত নয়।’

গত বছর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর পক্ষ থেকেও লুজাইনের মুক্তির জন্য আহ্বান জানানো হয়। মুক্তির খবরকে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে। গত ডিসেম্বরে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার দায়ে লুজাইনকে অভিযুক্ত করে পাঁচ বছর আট মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন সৌদি আরবের একটি আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং জনশৃঙ্খলা বিনষ্টের অভিযোগ আনা হয়। তবে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই অধিকারকর্মীকে মুক্তি দিতে বারবার আহ্বান জানানো হয়।

সৌদি আরবের পক্ষ থেকে লুজাইনের আটক, বিচার ও মুক্তি নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন