সৌদি যুবরাজকে মার্কিন আদালতের সমন

বিজ্ঞাপন
default-image

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। সৌদি আরবের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা সাদ আল–জাবরির দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ সমন জারি করা হয় বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা।

সাদ আল–জাবরি সম্প্রতি বিন সালমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন, যেখানে তাঁকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আনা হয় সৌদি যুবরাজ বিরুদ্ধে। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার আদালত আজ সোমবার এ সমন জারি করেন। এতে সৌদি যুবরাজ ছাড়াও ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সমনের জবাব দিতে ব্যর্থ হলে অভিযোগকারীর বক্তব্য বিবেচনায় নিয়েই রায় দেওয়া হবে।

সাদ আল–জাবরি বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন। প্রাণসংশয় থাকায় সেখানে তাঁর জন্য কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যেও সৌদি যুবরাজ তাঁকে হত্যার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন এই সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্কেই সূত্রে তিনি সৌদি যুবরাজের বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। আর এসব তথ্য থেকেই তিনি জানেন যে, সৌদি যুবরাজের অন্যতম লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন তিনি।

সাদ আল–জাবরির করা মামলায় বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ সম্পর্কে সংবেদনশীল এমন সব তথ্য তিনি জানেন, যা আর কেউ জানে না। আর এ কারণেই তাঁকে হত্যা করতে চান বিন সালমান।

এদিকে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আগেই ইন্টারপোলের কাছে সাদ আল–জাবরির নামে রেড অ্যালার্ট জারি করার অনুরোধ জানিয়ে রেখেছে। দুর্নীতির অভিযোগে বিচারের আওতায় আনার জন্য সাবেক এই গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে তারা ফেরত চায়। তবে সৌদি আরবের এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে ইন্টারপোল।

বিন সালমান যেকোনো মূল্যে সাদ আল–জাবরিকে হাতে পেতে চান। এ জন্য সৌদি প্রশাসন সাদ আল–জাবরির দুই সন্তানকে গত মার্চে আটক করে। গ্রেপ্তার করা হয় আল–জাবরির আরেক আত্মীয়কে। মূল লক্ষ্য চাপে ফেলে সাদ আল–জাবরিকে দেশে ফেরানো। এ ছাড়া বিদেশের মাটিতেও সাদ আল–জাবরিকে হত্যার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত সরাসরি আদালতে উত্থাপিত হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের আদালত থেকে সমন জারি হওয়ায় এখন কিছুটা বিপাকে পড়েছেন বিন সালমান। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক অ্যাসোসিয়েট ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রুস ফেইন আল–জাজিরাকে বলেন, ‘বিন সালমান এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে ব্যাপক যোগাযোগের চেষ্টা করবেন, যাতে তাঁরা তাঁকে সুরক্ষা দেন। তাঁরা চাইলে অন্য দেশের শীর্ষ নেতা বা কর্মকর্তার বিষয়টি উল্লেখ করে সে দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনমন হতে পারে মর্মে মামলাটি খারিজ করার জন্য আদালতকে অনুরোধ করতে পারেন। এর অর্থ হচ্ছে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখন বিন সালমানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন