default-image

ভেতরটা একদম ঝকঝকে, তকতকে। বেশ বড়সড় পরিসর। চারপাশের দেয়ালও স্বচ্ছ। বাইরে থেকে সবই দেখা যায়। তবে যেই না দরজা আটকে যায়, অমনি দেয়ালগুলো অস্বচ্ছ হয়ে যায়। আর দেখা যায় না কিছুই। এটুকু পড়ে হয়তো কোনো বিলাসবহুল শয়নকক্ষের কথাই প্রথমে মনে আসবে। কিন্তু একটি শৌচাগারের বর্ণনা এটি। জাপানের রাজধানী টোকিওর একটি উদ্যানে বসানো হয়েছে অভিনব এই শৌচাগার। খবর এএফপি।

বিজ্ঞাপন

টোকিওর ইয়োইয়োগি ফুকামাচি মিনি পার্কে স্থাপিত ওই স্বচ্ছ শৌচাগারে তিনটি প্রকোষ্ঠ রয়েছে। বেগুনি রঙের কাচঘেরা প্রকোষ্ঠটি পুরুষদের ব্যবহারের জন্য। গোলাপি কাচের প্রকোষ্ঠ নারীদের জন্য। আর হলুদ রঙের প্রকোষ্ঠ বাচ্চাদের ব্যবহারের জন্য। বৈদ্যুতিক প্রবাহের মাধ্যমে এই শৌচাগারের দেয়ালগুলো স্বচ্ছ রাখা হয়। দরজা আটকালে দেয়ালে বিদ্যুতের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে অস্বচ্ছ হয়ে ওঠে এগুলো। মূলত শৌচাগারে কেউ রয়েছে কি না, তা বাইরে থেকে বোঝার সুবিধার্থে এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। শৌচাগার পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন কি না, তা–ও বোঝা যাবে এ কৌশলে। উদ্ভাবকদের বিশ্বাস, এ শৌচাগারে থাকা অবস্থায় বিদ্যুৎ চলে গেলে অজানা আতঙ্কও কাজ করবে না মানুষের মনে।

বিজ্ঞাপন

জাপানের অলাভজনক সংগঠন নিপ্পন ফাউন্ডেশন এ স্বচ্ছ শৌচাগারের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। নতুন আঙ্গিকে নাগরিক সুবিধা দেওয়ার কৌশল উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করছে সংগঠনটি। ইয়োইয়োগি ফুকামাচি মিনি পার্কে স্থাপিত শৌচাগারটির নকশা করেছেন স্থপতি শিগেরু বান।

নিপ্পন ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা কানা সাজি বলেন, স্থপতি শিগেরু বান আসলে গণশৌচাগার নিয়ে মানুষের বড় উদ্বেগগুলো দূর করতে চেয়েছেন। শৌচাগারের ভেতরকার পরিবেশ, পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অনেকেই চিন্তিত থাকেন। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছ শৌচাগার একটি সমাধান হতে পারে। এতে মানুষ বাইরে থেকেই পরিবেশটা যাচাই করতে পারে। এমনকি শৌচাগারে কেউ ঘাপটি মেরে রয়েছে কি না, সেটাও যাচাই করা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

স্বচ্ছ শৌচাগারটি এরই মধ্যে মানুষের নজর কেড়েছে। ইয়োইয়োগি ফুকামাচি মিনি পার্কে যাতায়াত করা অনেকেই এটি পছন্দ করেছেন। স্থানীয় এক গৃহিণী বলেন, গণশৌচাগারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এগুলো নোংরা আর অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়। নতুন এই শৌচাগারে সেসব সমস্যা নেই। মাসাতাকা সুচিগামি (৫৫) নামের আরেকজনও বলেছেন, তিনিও নতুন এ প্রযুক্তি পছন্দ করেছেন।

মন্তব্য পড়ুন 0