default-image

হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যারি লামসহ চীনের মূল ভূখণ্ড ও হংকংয়ের শীর্ষ ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসনকে হীন করে দেওয়ার লক্ষ্যে যারা কাজ করেছে, এই নিষেধাজ্ঞা তাদের জন্য দেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মিউচিন। আজ শনিবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হংকংয়ের স্বাধীনতায় অযাচিত হস্তক্ষেপের অভিযোগে ওই কর্মকর্তাদের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটি।

স্টিভেন মিউচিন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘হংকংয়ের জনগণের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র পাশেই আছে এবং আমরা তাদের স্বায়ত্তশাসনের ক্ষুণ্নকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’ বেইজিং হংকংয়ে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইন পাস করায় তাদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নিল। সম্প্রতি তুমুল বিক্ষোভের মুখেই বিতর্কিত এ আইন পাস করে চীন।

বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, এর মাধ্যমে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট সরকার আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে চলমান বিক্ষোভ দমনে জাতীয় নিরাপত্তা আইন জারির চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছায়। ওই আইনে বিচ্ছিন্নতা ও রাষ্ট্রদ্রোহ নিষিদ্ধ করা হয়। এর অধীনে হংকংয়ের আইনপ্রণেতা ছাড়াই সেসব অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাজা দেওয়ার সুযোগ পাবে চীনা কর্তৃপক্ষ।

হংকং ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের টানাপোড়েনের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে সম্প্রতি চীনা মালিকানাধীন টিকটক এবং উইচ্যাট অ্যাপগুলোর পাশাপাশি বেশ কিছু কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ওয়াশিংটনের দাবি, জনপ্রিয় পরিষেবাগুলো এই মুহূর্তে মার্কিন জাতীয় সুরক্ষার জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বার্তা সংস্থা সিএনএন জানিয়েছে, চীনের জনপ্রিয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে হস্তগত করতে চাপ দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ জন্য ৪৫ দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে যেকোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের কাছে এগুলোকে বিক্রি হতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। নতুন করে দেশটির কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে উত্তেজনা আরও বাড়বে। ক্যারি লাম ছাড়াও ওই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন চীনের হংকং-ম্যাকাও লিয়াজো দপ্তরের পরিচালক সিয়া বাওলং, হংকংয়ের পুলিশ কমিশনার ক্রিস ট্যাং।

কিছুদিন ধরেই মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করছেন, চীন বিশ্বের প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের জায়গা নিতে চায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং জাতীয় সুরক্ষার উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রায়েনের মতো মানুষের মুখেও এমন মন্তব্য শোনা গেছে। তবে বরাবরই চীন এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ওয়াং বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এই অবনতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন তিনি। ওয়াং বলেন, কিছু মার্কিন রাজনীতিবিদ যাঁরা চীনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট এবং শত্রুতা পোষণ করেছেন, তাঁরা তাঁদের শক্তি ব্যবহার করে চীনকে মিথ্যাবাদী বানানোর জন্য এবং বিভিন্ন অজুহাতে চীনের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0