হোক্কাইডোতে ভালুকের কাণ্ড

প্রতীকী ছবি
ছবি: রয়টার্স

জাপানের উত্তরের জেলা হোক্কাইডোতে স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার হামলা চালিয়েছে প্রায় দেড় মিটার লম্বা এক ভালুক। পাহাড়ে খাদ্যঘাটতির কারণে খুব ভোরে ভালুকটি হোক্কাইডোর প্রধান শহর সাপ্পোরোর দক্ষিণের ওকাদামা জনবসতিতে যায়। ভালুকটি বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি শুরু করে। পরে সেনাবাহিনীর এক সদস্যের ওপর হামলা চালায়। অনেক চেষ্টার পরে ভালুকটিকে ধরাশায়ী করা গেছে।

দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে স্থানীয় এক বাসিন্দা ভালুকটিকে দেখেন। তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ নগর প্রশাসনকে সতর্ক করে দিলে নিরাপত্তা পদক্ষেপ হিসেবে শহরের শিক্ষা বোর্ড ও আশপাশের এলাকায় অবস্থিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ ঘোষণা করে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের বাড়ির বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়। জাপানের নাগরিক সম্প্রচার কেন্দ্র এনএইচকে জানিয়েছে মোট ১০টি স্কুল ভালুকের হামলার আশঙ্কার কারণে বন্ধ রাখা হয়।

প্রথমবার দেখা যাওয়ার পর ভালুকটিকে দুই কিলোমিটার দূরে অন্য এক জনবসতিতে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। ভোর হয়ে আসায় মানুষ এবং যানবাহন পথে নেমে এলে ভালুকও পাল্লা দিয়ে তাঁদের সঙ্গে ছুটতে থাকে। আতঙ্কিত হয়ে পালাতে গিয়ে দুই ব্যক্তি আহত হন।

সংবাদমাধ্যমের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কখনো ভালুকটি নালায় নেমে হেঁটে বেড়াচ্ছে, কখনো আবার প্রধান সড়ক ধরে দৌড়ে যাচ্ছে। এরপর ভালুকটি জাপানের নিরাপত্তা বাহিনীর একটি শিবিরের সামনে যায়। মূল ফটকে পাহারারত সেনাসদস্যের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে আহত করে শিবিরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। অন্য সদস্যরা এগিয়ে এসে আহত সহকর্মীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। শিবিরের সেনাসদস্যদের ভবনের ভেতরে আশ্রয় নিতে বলা হয়। ভালুকটি এরপর ওই এলাকার কাছাকাছি ওকাদামা বিমানবন্দরের রানওয়ের দিকে ছুটে যায়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অবশ্য এর আগেই বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছিল।
ভালুকের পিছু নেওয়ার জন্য পুলিশ হেলিকপ্টারের সাহায্যও নিয়েছে। বেলা ১১টার পরে শিকারিরা পাঁচটি গুলি ছুড়ে ভালুকটিকে ধরাশায়ী করে।

পাহাড় থেকে নেমে আসা ভালুকটি ধরতে প্রায় আট ঘণ্টা ধরে শহরজুড়ে অভিযান চালানো হয়।

হোক্কাইডোতে একসময় ভালুকের নিবাস ছিল। আইনু সম্প্রদায়ের মানুষ ভালুককে দেবতা মনে করত। পূজা দিত। ফলে, ভালুকের খাবারের অভাব হতো না। ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে জাপানের মূল ভূখণ্ডের অধিবাসীরা হোক্কাইডোতে বসতি বিস্তার শুরু করে। তাদের কারণে আইনু সম্প্রদায়ের মানুষ কোণঠাসা হয়ে পড়ে। ভালুকের সংখ্যাও কমে যায়।

বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে জাপানে শিকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ভালুকের সংখ্যা তখন দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। ভালুকের সংখ্যা যেন মাত্রা ছাড়িয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হোক্কাইডোর স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ পরিস্থিতিতে শিকারিদের ভালুক বধের অনুমতি দিয়ে আসছে। তবে তা সত্ত্বেও ভালুকের উৎপাত থেমে নেই। বাদামি রঙের উসুরি জাতের ভালুক মাঝেমধ্যে ক্ষুধার্ত অবস্থায় মানববসতিতে হানা দেয়, কখনো আবার জানমালের ক্ষতিও করে থাকে।

জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সংগ্রহ করা উপাত্ত অনুযায়ী গত বছর ভালুকের হামলায় দুই ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৫৮ জন। অন্যদিকে, ভালুক বধ করা হয়েছে ৬ হাজার ৮৬১টি।