বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাধারণত ৪০ সপ্তাহ মায়ের গর্ভে কাটানোর পর জন্ম হয় সন্তানের। তবে জুয়ানের ক্ষেত্রে তা ছিল ব্যতিক্রম। গর্ভধারণের ২৫ সপ্তাহের কম সময়ে মা ওং মেই লিংয়ের শারীরিক জটিলতার কারণে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম হয় জুয়ানের। অপরিণত অবস্থায় শিশুটির জন্ম হয়।

জুয়ান গর্ভে থাকার সময় ‘প্রি-একল্যাম্পসিয়ায়’ ভুগছিলেন তার মা। এই রোগে শরীরের রক্তচাপ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে মায়ের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। গর্ভধারণের সময় এমন রক্তচাপ মায়ের পাশাপাশি শিশুর জন্যও মারাত্মক হতে পারে।

জুয়ানের জন্ম হয় সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে। প্রথম দিকে চিকিৎসকেরা ধরেই নিয়েছিলেন জুয়ানকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। তবে সব আশঙ্কা মিথ্যা প্রমাণিত করে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে সে। সম্প্রতি চিকিৎসকেরা তাকে বাড়ি নেওয়ার অনুমতি দেন।

শুধু চিকিৎসক না, জুয়ানকে নিয়ে ভয়ে ছিলেন তার মাও। স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, তাঁরাও ধাক্কা খেয়েছিলেন। কারণ, চার বছর বয়সী তাঁদের প্রথম সন্তান ঠিকঠাক সময়েই জন্ম নিয়েছিল।

এদিকে জুয়ানের জন্ম এবং দীর্ঘ সময়ে হাসপাতালে থাকার খরচাটাও ছিল বিশাল। তবে এ নিয়ে সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি তার মা-বাবাকে। জুয়ানের চিকিৎসার জন্য তহবিল সংগ্রহে প্রচার চালানো হয়। সেখান থেকে উঠে আসে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৮৫০ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশের হিসাবে যার পরিমাণ ১ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

২১২ গ্রাম ওজনের জুয়ান এখন ৬ কেজি ৩০০ গ্রাম। তবে এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেনি। তার ফুসফুসে জটিলতা রয়েছে। শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যার কারণে তাকে বাড়ি থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। তবে সময়ের সঙ্গে এটিও সেরে উঠবে বলে আশা চিকিৎসকদের।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন