default-image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল জিতবে কি না, তা নির্ভর করছে ৬০ আসনের ওপর। এ আসনগুলো নিজেদের দিকে ফেরাতে পারলেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘হ্যাটট্রিক’ করবেন। ‘ভোটগুরু’ তকমা পাওয়া ভারতের ভোট বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত কিশোর এ কথা জানিয়েছেন। এর আগে ভারতের একাধিক রাজ্যে বিভিন্ন দলকে ক্ষমতায় আনতে ভূমিকা রাখা প্রশান্ত এবার তৃণমূলের হয়ে কাজ করছেন।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন ২০২১ সালের এপ্রিল-মে মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে নেমে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের দুই শক্তিশালী দল তৃণমূল ও বিজেপি। বিজেপি এবার লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসন জিতে আগামীর রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে।

লোকসভা নির্বাচনে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য তৃণমূল নিয়োগ দেয় প্রশান্ত কিশোরকে। মমতাকে জেতানোর জন্য প্রশান্ত বাহিনী জুলাই মাস থেকে কাজ শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গে। ওই মাসেই প্রশান্ত কিশোর রাজ্য রাজনীতি পর্যালোচনা করে বলেছিলেন, এখনো মমতার ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা প্রবল। সেই লক্ষ্য নিয়ে প্রশান্ত কিশোর কাজ শুরু করেন পশ্চিমবঙ্গে।

এবার প্রশান্ত কিশোর বললেন, মমতা যদি রাজ্যের তফসিলি জাতি, উপজাতি, আদিবাসী এবং এই রাজ্যের মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন, তবে মমতাও ২০০ আসন জিতে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় থাকার হ্যাট্রিক করতে পারবেন। তফসিলি আসনের সংখ্যা ৮৪। প্রশান্ত কিশোরের কথা, এখনো আসন নিয়ন্ত্রণ করছে রাজ্যের তফসিলি জাতি, উপজাতি, আদিবাসী ও মতুয়া সম্প্রদায়। এবারের লোকসভা নির্বাচনেও দেখা গেছে ওই সব সংরক্ষিত আসনে বিপুল ভোটে জিতেছে বিজেপি। তাই প্রশান্ত কিশোর এবার নজর দিয়েছেন ওই সব আসনে। কিশোর বলেছেন, রাজ্যের ওই সব সম্প্রদায়ের নিয়ন্ত্রণে থাকা ৬০টি আসন করায়ত্ত করতে পারলেই নিশ্চিত জয় হবে তৃণমূলের। প্রশান্ত কিশোর ওই সব সম্প্রদায়ের সংরক্ষিত আসনের বিধায়ক, জেলা পরিষদের সভাপতিসহ সাংগঠনিক কর্মকর্তাদের বলেছেন, ওই সংরক্ষিত আসনের ৬০টি নিজেদের থলিতে পুরে আনার জন্য কাজ করতে হবে দলকে।

default-image



আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গের ১১০টি পৌরসভা ও পৌর করপোরেশনের নির্বাচন হবে।

প্রশান্ত কিশোরের ‘ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’ বা আইপিএসি নামে একটি সংস্থা আছে। তৃণমূলের সঙ্গে চুক্তির পর প্রশান্ত কিশোর প্রথমে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি চালু করেন। এর আওতায় একটি ফোন নম্বর দেওয়া হয়। ওই ফোন নম্বরে ফোন করে সাধারণ মানুষ মমতার কাছে তাঁদের অভাব, অভিযোগ ও সমস্যার কথা জানান। সেই কর্মসূচিতে মোটামুটি সাড়া মেলে মমতার। কিন্তু সেই সাড়া কতটুকু ভোটযন্ত্রে প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে খোদ তৃণমূলের অন্দরেই। অভিযোগ উঠেছে ওই কর্মসূচি বাস্তবায়নে বহু তৃণমূল নেতা–কর্মী সেভাবে কাজ করেননি। ফলে এখনই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠে এসেছে ভোটগুরুর জাদু কি তবে ফিকে হয়ে যাবে? যদিও বিজেপি বলেই রেখেছে, তৃণমূলের কোনো জাদু কাজ করবে না। মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিজেপির দিকে।

প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা ২০১২ সালে গুজরাটের নির্বাচনে দায়িত্বে ছিল। সেবার তৃতীয়বারের জন্য মোদি ক্ষমতায় আসেন। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে এই সংস্থার পরামর্শে ‘হর হর মোদি, ঘর ঘর মোদি’ আর ‘চায়ে পে চর্চা’ স্লোগান তোলা হয়। মোদিকে ক্ষমতায় আনার ক্ষেত্রে সংস্থার যথেষ্ট ভূমিকা আছে বলে মনে করা হয়। ২০১৫ সালে বিহারে নীতিশ-লালু প্রসাদ জোটকে ক্ষমতায় আনার কারিগর ছিল এই সংস্থা। ২০১৭ সালে ১০ বছর পর কংগ্রেস পাঞ্জাবে ক্ষমতায় আসে। নেপথ্যে থেকে কাজ করেন প্রশান্ত ও তাঁর আইপিএসি। এ বছর ২০১৯–এ অন্ধ্র প্রদেশের লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে ওয়াইএসআর কংগ্রেসের নেতা জগন্মোহন রেড্ডিকে ক্ষমতায় আনার কারিগর হন। অন্ধ্র প্রদেশের ২৪টি লোকসভা আসনের ২২টিতে জেতেন রেড্ডি। আর বিধানসভার ১৭৫টি আসনের মধ্যে জেতেন ১৫১টি আসনে।

এই ফল দেখার পর মমতা ঝুঁকে পড়েন প্রশান্ত কিশোরের দিকে। তারপর তাঁর সঙ্গে এক বৈঠক করে একটি চুক্তিও করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0