default-image

চীনের সংখ্যালঘু উইঘুর জাতিসত্তার লোকজনের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক দমন চালানোর নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ ইয়েভ লে দ্রিয়ান আজ বুধবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সভায় চীনের নিন্দা করেন। তিনি বলেন, উইঘুরদের ওপর যে নিপীড়ন চালানো হচ্ছে, তা ‘প্রাতিষ্ঠানিক দমন’।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জিনজিয়াং অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত সাক্ষ্য ও নথি উইঘুরদের ওপর ‘অযৌক্তিক অনুশীলন’ নির্দেশ করে। এ ছাড়া সেখানে ব্যাপকমাত্রায় নজরদারি ও প্রাতিষ্ঠানিক দমন–পীড়নের বিষয়টি স্পষ্ট। এর আগে সংখ্যালঘু উইঘুর জনগোষ্ঠীর প্রতি দেশটির সরকারের আচরণকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যা দেয় কানাডার পার্লামেন্ট। হাউস অব কমন্সে গত সোমবার এ বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও উইঘুর মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রতি চীনের আচরণকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, গত কয়েক বছরে চীন ১০ লাখের বেশি উইঘুর জনগোষ্ঠীকে বন্দী করে রেখেছে।

বিজ্ঞাপন

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এর আগে যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক আইনগত মতামতে বলা হয়, সংখ্যালঘু মুসলিম উইঘুর সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চীন সরকারের গণহত্যার অপরাধ সংঘটনের খুবই বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে। ১০০ পৃষ্ঠার এই আইনগত মতামত লিখেছেন লন্ডনের এসেক্স কোর্ট চেম্বারের একাধিক জ্যেষ্ঠ ব্যারিস্টার। আইনগত মতামতের উদ্যোক্তা গ্লোবাল লিগ্যাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক, ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস ও উইঘুর হিউম্যান রাইটস প্রজেক্ট।

বিশেষজ্ঞদের আইনগত মতামতে এই বলে উপসংহার টানা হয়েছে, উইঘুরদের ধ্বংস করার অভিপ্রায় দেখিয়ে আসছে চীন সরকার। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় তৎপরতার প্রমাণ রয়েছে।

উইঘুরদের ধ্বংসের লক্ষ্যে চীন সরকার যেসব কর্মকাণ্ড করছে, তার মধ্যে রয়েছে সংখ্যালঘু এই মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের আটকে রাখার মাধ্যমে তাদের ইচ্ছাকৃত ক্ষতি করার প্রবণতা, গর্ভপাত–বন্ধ্যাকরণসহ নানাভাবে নারীদের সন্তান জন্মদান রোধের ব্যবস্থা, উইঘুর শিশুদের তাদের সম্প্রদায় থেকে জোর করে স্থানান্তর ইত্যাদি।

চীনের জিনজিয়াংয়ের উইঘুরদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে বেইজিং। লন্ডনে চীনা দূতাবাস বলেছে, বেইজিংবিরোধী পশ্চিমা শক্তি জিনজিয়াং নিয়ে মিথ্যার বেসাতি করছে। জিনজিয়াং নিয়ে অভিযোগকে ‘শতাব্দীর মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে লন্ডনে চীনা দূতাবাস।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, উইঘুরসহ অন্য মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে চীন গণহত্যা সংঘটন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বলে, উইঘুর ও অন্য মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে চীন শতাব্দীর ভয়াবহতম অপরাধ সংঘটন করছে।

চীন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন