বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১ জানুয়ারি ওই নারীর ভাইয়ের মেয়ে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতে পোস্ট দিয়ে এ ঘটনার কথা জানান। সঙ্গে ছবি ও ভিডিও জুড়ে দেন তিনি। তাতে দেখা যায়, জিয়ান শহরের গাওজিন হাসপাতালের সামনে প্লাস্টিকের একটি টুলে বসে রয়েছেন ওই নারী। তাঁর চার পাশে তাজা রক্ত ছড়িয়ে রয়েছে। সেটি ছিল তাঁর গর্ভপাতের ঘটনা। এ সময় তিনি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

পোস্টে বলা হয়, হাসপাতালে আসার আগের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে করোনার নেগেটিভ সনদ না থাকায় ওই নারীকে ঢুকতে দেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাঁকে টানা দুই ঘণ্টা বাইরে বসিয়ে রাখা হয়। যদিও ওই নারীর কাছে করোনার নেগেটিভ সনদ ছিল। তবে সেটির মেয়াদ হাসপাতালে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে পেরিয়ে যায়। পরে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে তার আগেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। এ ঘটনায় ক্ষোভ জানান অনেকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন কঠোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়।
সমালোচনার মুখে জিয়ান শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক লিউ শুনঝি ক্ষমা চেয়েছেন। লিউ বলেন, ‘আমি ওই নারীর কাছে শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাচ্ছি।’ তিনি জানান, এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছে।

শহর কর্তৃপক্ষ গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ওই ঘটনার তদন্ত শুরুর কথা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে হাসপাতালটির মহাব্যবস্থাপককে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনা সমাজে খারাপ বার্তা ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা শহর কর্তৃপক্ষের।
চীনে বর্তমান করোনা সংক্রমণের কেন্দ্র এই জিয়ান শহর। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চীনা কর্তৃপক্ষ জিয়ান শহরে যে ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছে তা ২০২০ সালের শুরুতে উহান শহরে আরোপিত বিধিনিষেধের পর সবচেয়ে কঠোর। চীনের উহানে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়েছিল। পরে সেখান থেকেই প্রাণঘাতী এই ভাইরাস পুরো বিশ্বে ছড়িয়েছে।

চীন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন