default-image

গায়ানায় বাণিজ্যিক কার্যালয় খুলেছে তাইওয়ান। আজ বৃহস্পতিবার কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। তাইওয়ানকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে চীন। এর মধ্যে দেশটির এমন পদক্ষেপকে  ‘মাইলফলক’ বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর এএফপির।
তাইপে বলেছে, বাণিজ্যিক অফিস খুলতে তারা গত মাসে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানার সঙ্গে একটি চুক্তি সই করেছে।  

তাইপের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যুরো অব ওয়েস্টার্ন হেমিসফিয়ার অ্যাফেয়ার্সের ভারপ্রাপ্ত সহকারী মন্ত্রী জুলি চাং টুইটারে লিখেছেন, ‘এই মাইলফলক উভয় দেশের জন্য সুবিধা বয়ে আনবে এবং এ অঞ্চলের নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সমৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।’

গায়ানায় মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘তাইওয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেশটির সঙ্গে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা গায়ানার সম্পর্কের আরও উন্নয়ন ঘটাবে। পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা জোরদার করবে।’  
চীনের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও ১৫টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। চীন মনে করে, তাইওয়ান তাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া একটি প্রদেশ। তাইওয়ান কোনো সময় স্বাধীনতা ঘোষণা করলে চীনের পক্ষ থেকে শক্তিপ্রয়োগের সম্ভাবনার বিষয়টি কখনোই নাকচ করেনি বেইজিং। ১৯৪৯ সাল থেকে চীন ও তাইওয়ান পৃথকভাবে শাসিত হচ্ছে।

তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ১৫ জানুয়ারি গায়ানা সে দেশে তার বাণিজ্যিক অফিস খোলার অস্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণ করে। এখন গায়ানা তাইওয়ানে অফিস খুললে তারাও একই রকম সুবিধা পাবে। তাইওয়ানের দাবি, গত মাসের শেষ দিকে চীনের কয়েকটি যুদ্ধবিমান তার দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা জোনে ঢুকে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

এরপর বেইজিংকে তাইওয়ানের ওপর চাপ বন্ধ করতে আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে চীন মনে করে, তাইওয়ানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন বারবার বলছেন, তাইওয়ান ইতিমধ্যে একটি ‘স্বাধীন দেশ’ ও এর আনুষ্ঠানিক নাম ‘দ্য রিপাবলিক অব চায়না’।

চীনের বিমানবাহিনীর সাম্প্রতিক মহড়া প্রসঙ্গে চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উ কিয়ান এক সংবাদ বিফ্রিংয়ে বলেন, তাইওয়ান হচ্ছে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাইওয়ান প্রণালিতে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও চীনের জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলেই সেখানে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির এসব কর্মকাণ্ড।

মুষ্টিমেয় কিছু লোক তাইওয়ানের স্বাধীনতা দাবি করছে উল্লেখ করে উ কিয়ান বলেন, ‘তাইওয়ান ইনডিপেনডেন্স’ বাহিনীর উসকানি ও বিদেশি হস্তক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাইওয়ানের স্বাধীনতাকামীদের সতর্ক করতে চাই। যাঁরা আগুন নিয়ে খেলছেন, আগুন তাঁদের পুড়িয়ে দেবে। তাইওয়ানের স্বাধীনতা মানেই হচ্ছে যুদ্ধ।’

তাইওয়ানের মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল বলেছে, চীনের চিন্তাভাবনা করে কথা বলা উচিত। এই দ্বীপ রাষ্ট্রটির সার্বভৌমত্ব রক্ষা, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার সংকল্পকে ছোট করে দেখা ঠিক হবে না।

চীনের ওই হুমকির নিন্দা জানিয়ে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট তাঁর দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং দমন–নিপীড়নের শিকার না হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞাপন
চীন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন