default-image

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বলেছেন, উন্নতি অর্জনে চীনকে বিশ্ব থেকে আলাদা করা যাবে না। কারণ সমৃদ্ধির জন্য উভয়েরই একে অপরের প্রয়োজন পড়বে। গতকাল মঙ্গলবার চীনের নতুন উন্নয়ন মডেল তুলে ধরার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাজ্যপ্রধানদের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট এক ভিডিও সম্মেলনে বলেন, চীন একটি নতুন উন্নয়নের দৃষ্টান্ত গড়ে তোলার প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করছে। এতে স্থানীয় সঞ্চালনকে প্রধান ভিত্তি ধরা হচ্ছে। তবে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রচলন একে অপরকে চাঙা করে তুলবে। এ উন্নতি অর্জনে চীনকে বিশ্ব থেকে আলাদা করে ফেলা যাবে না। বিশ্বের উন্নতির জন্যও চীনকে দরকার।

বিজ্ঞাপন

সি চিন পিং বলেন, ‘উচ্চতর মানের একটি উন্মুক্ত অর্থনীতি গড়ে তুলতে নতুন পদ্ধতি স্থাপন করা হচ্ছে। উন্মুক্ত অর্থনীতির জন্য উভয় পক্ষের লাভ হয় এমন কৌশলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে চীন।’

চীনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সব পক্ষকে চীনের উন্নয়নের সুযোগকে পুঁজি করার জন্য এবং চীনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও সক্রিয় প্রচেষ্টায় স্বাগত জানাচ্ছি।

গত ৩১ অক্টোবর চীনের কমিউনিস্ট পার্টির অফিশিয়াল জার্নাল কিউসিসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে সি লিখেছেন, চীন আর আগের অর্থনৈতিক মডেল অনুসরণ করবে না। আগের মডেলে চীনকে উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক রপ্তানির ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন দেশে স্থানীয় উন্নয়নের মডেল অনুসরণ করবে দেশটি।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী পাঁচ বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সাল পর্যন্ত টেকসই অর্থনৈতিক উন্নতির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চীন।

গত অক্টোবরে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও সেন্ট্রাল কমিটির সদস্যরা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। দেশটির ক্ষমতাসীন দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত নেতাদের ওই বৈঠকে দেশটির ১৪তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনাটি দেশটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নীলনকশা হিসেবে বিবেচিত হয়।

সার্বিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে চীন তাদের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বাড়িয়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে মধ্যম উন্নত দেশের কাতারে নিতে চায়। চীন বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও সংস্কার চালিয়ে বাজার শক্তিকে জোরদার করতে চায়। এ ক্ষেত্রে দেশটি ‘ডুয়েল সার্কুলেশন’ মডেল গ্রহণ করবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে দেশটি এবং তা উন্নয়নের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এতে স্থানীয় চাহিদা ও জোগান প্রচেষ্টা বাড়িয়ে সরবরাহ খাতেও পরিবর্তন আনবে।

মন্তব্য পড়ুন 0