তীব্র বিরোধিতা উপেক্ষা করে গত জুনের শেষে হংকংয়ে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর করে চীন
তীব্র বিরোধিতা উপেক্ষা করে গত জুনের শেষে হংকংয়ে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর করে চীনছবি: রয়টার্স

হংকংয়ে কার্যকর চীনের জাতীয় নিরাপত্তা আইন এ অঞ্চলের স্বাধীনতাকে গুরুতর ঝুঁকিতে ফেলেছে। এই আইন আন্তর্জাতিক আইনগত বাধ্যবাধকতার লঙ্ঘন।

মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ারস এসব কথা বলেছেন। আজ শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

চীনের আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকং। তীব্র বিরোধিতা উপেক্ষা করে গত জুনের শেষে হংকংয়ে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর করে চীন। এই আইন কার্যকর করায় চীন সমালোচিত হচ্ছে।

আইনে বিচ্ছিন্নতাবাদ, কেন্দ্রীয় সরকার পতন, সন্ত্রাসবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করতে বিদেশি বাহিনীর সঙ্গে আঁতাতমূলক যেকোনো কাজকে শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া এই আইনে হংকংয়ের আইনসভাকে পাশ কাটিয়ে নিরাপত্তাসংক্রান্ত যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আইনটি গণতন্ত্রপন্থী অনেক বিক্ষোভকারীর মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছে। অনেক বিক্ষোভকারী নিশ্চুপ হয়ে গেছেন।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের একটি চিঠি আজ প্রকাশ্যে আসে। আইনটির কিছু অংশ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা চীনের যেকোনো ধরনের সমালোচনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে বলে প্রতীয়মান হয় মর্মে সতর্ক করেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।

মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ারসরা বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা আইন হংকংয়ের মৌলিক স্বাধীনতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। আইনটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের ওপর আঘাত হানতে পারে।

মানবাধিকারের বাধ্যবাধকতাগুলো মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিতে আইনটির বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন পর্যালোচক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।
সমালোচক, পশ্চিমা বিশ্ব ও গণতন্ত্রপন্থীরা বলে আসছেন, হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতা ধূলিসাৎ করবে আইনটি। এই আইনে হংকং একটি ‘নিষিদ্ধ পুলিশি রাষ্ট্রে’ পরিণত হবে।

১৯৯৭ সালে একটি চুক্তির মাধ্যমে হংকংকে ফের চীনের হাত তুলে দেয় ব্রিটেন। অঞ্চলটি ব্রিটেনের উপনিবেশ ছিল।

বিজ্ঞাপন
চীন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন