ট্রুডো আরও বলেন, ‘আমাদের একসঙ্গে কাজ করার জন্য এবং শক্তিশালী হয়ে দাঁড়ানোর জন্য আরও ভালোভাবে কাজ করতে হবে, যাতে চীন কোনো গোপন অভিপ্রায় নিয়ে খেলতে না পারে এবং আমাদের একে অপরের বিরুদ্ধে লাগিয়ে বিভক্ত না করতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ২০১৮ সালে কানাডার পুলিশ চীনা কোম্পানি হুয়াওয়ের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা (সিএফও) মেং ওয়ানঝুকে আটক করার পর থেকেই বেইজিংয়ের সঙ্গে অটোয়ার সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

বেইজিং পরে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মাইকেল স্প্যাভর ও মাইকেল কোভরিগ নামের দুই কানাডীয়কে আটক করে। একে কানাডা ‘জিম্মি কূটনীতি’ আখ্যা দিলেও চীন তা উড়িয়ে দেয়।

সেপ্টেম্বরে মেং মার্কিন কৌঁসুলিদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছালে তাঁকে মুক্তি দেয় কানাডা। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কানাডার দুই নাগরিকেরও মুক্তির খবর মেলে।
মেংয়ের গ্রেপ্তারকাণ্ডের আগেও চীনের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কানাডা ধারাবাহিকভাবে প্রশ্ন তুলেছে, যাতে বেইজিং বিরক্ত। এর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

এ মাসের শুরুর দিকে কানাডা জানায়, মিত্র কয়েকটি দেশের মতো তারাও আগামী বছর বেইজিংয়ে হতে যাওয়া শীতকালীন অলিম্পিক কূটনৈতিকভাবে বয়কট করতে যাচ্ছে।

চীনকে মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াল জাপান

চীনের দ্রুত সামরিক সম্প্রসারণ এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির পটভূমিতে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াল জাপান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সরকার গত শুক্রবার নতুন বাজেট অনুমোদন দিয়েছে।

default-image

আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া অর্থবছরে জাপানের প্রতিরক্ষা বাজেট ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৪৭ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ইয়েনে দাঁড়াবে। তবে বেইজিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের এই প্রতিরক্ষা বাজেট চীনের সামরিক বাহিনীর এক প্রান্তিক বা তিন মাসের বাজেটের কম।

গত এপ্রিল মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রে তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন।

চীনের দাবি করা তাইওয়ান নিয়ে উত্তেজনা বেড়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তাইওয়ানে তাঁর দেশের সার্বভৌমত্বের দাবি জাহির করতে চাইছেন। তাইওয়ানের সরকার বলছে, তারা শান্তি চায়, তবে প্রয়োজনে আত্মরক্ষা করবে।

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও শাসক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব শিনজো আবে বলেছেন, তাইওয়ানের যেকোনো জরুরি অবস্থা জাপানের জন্য জরুরি হবে। এ ছাড়া তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের নিরাপত্তা জোটের জন্য জরুরি পরিস্থিতি হয়ে দাঁড়াবে।

জাপানের প্রতিরক্ষা বাজেটের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিন করপোরেশনের তৈরি ১২টি এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটার বিমান ক্রয়ের বিষয়টি। এতে ১২৮ বিলিয়ন ইয়েন খরচ করবে জাপান। এর পাশাপাশি আগামী বছর স্থানীয়ভাবে জেট ফাইটার তৈরিতেও বাজেট রাখছে দেশটি। ২০৩০ সাল পর্যন্ত মিতশুবিসি হেভিড ইন্ড্রাস্টিজের অধীনে এ প্রকল্প চলবে। এ খাতে ৮৬ বিলিয়ান ইয়েন খরচ করবে দেশটি। এ ছাড়া সাইবার প্রতিরক্ষায় ৩৪ বিলিয়ন ইয়েন, মহাকাশসংক্রান্ত প্রকল্পে ৭৯ বিলিয়ন ইয়েন বাজেট করেছে জাপান। এই বাজেট পার্লামেন্টে পাস হতে হবে। অবশ্য পার্লামেন্টে কিশিদা সরকারের আসনসংখ্যা সর্বাধিক।

চীন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন