default-image

চীনে করোনাভাইরাসের টিকা জরুরিভিত্তিতে প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কোনো আপত্তি নেই বলে দাবি করেছে বেইজিং।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের কর্মকর্তা ঝেং ঝংউই শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের বিস্তার কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ইউরোপে মহামারি নিয়ন্ত্রণে আসার পর এ অঞ্চলের কোনো কোনো দেশে আবারও সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। করোনা মহামারির সার্বক্ষণিক তথ্য প্রকাশকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস ডট ইনফোর তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৯ লাখ ৯০ হাজারের বেশি মানুষ। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ রোগী।

করোনা মহামারির বিস্তারের শুরু থেকেই বিশ্বজুড়ে এর কার্যকর ও নিরাপদ টিকা উদ্ভাবনের কাজ চলছে। ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদ করা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার খসড়া তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের ১৮৭টি সম্ভাব্য টিকা নিয়ে কাজ চলছে। এর মধ্যে ৩৮টি টিকা মানবদেহে পরীক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এসব টিকার মধ্যে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা এবং চীনের সিনোভ্যাকের টিকাটি আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মডার্না, ফাইজার ও নোভাভ্যাক্স, রাশিয়ার গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট, জার্মানির কিওরভ্যাক, চীনের সিনোফার্মের সম্ভাব্য টিকাও আলোচনায় রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, করোনার টিকার জরুরিভিত্তিতে প্রয়োগের বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনাপত্তির বিষয়ে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের কর্মকর্তা ঝেং ঝংউই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চীন গত জুলাই থেকেই জরুরিভিত্তিতে টিকা প্রয়োগ শুরু করেছে। এর আগে গত জুনের শেষের দিকে কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে। সে সময়ই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ পদক্ষেপের বিষয়ে তাদের সমর্থনের কথা জানায়।

চীনের এ দাবির স্বপক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে দেশটিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধির মন্তব্য পায়নি রয়টার্স। তবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চলতি মাসেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৌম্য স্বামিনাথান বলেছেন, যেকোনো দেশের জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বর্তমান জরুরি পরিস্থিতিতে নিজের দেশে যেকোনো চিকিৎসাপণ্যের ব্যবহারের অনুমোদন দিতে পারে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ ‘সাময়িক সমাধান’ হিসেবেই নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, করোনা মহামারির দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হলো মানবদেহে কোনো টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শেষে নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণিত হলে তা প্রয়োগ করা।

করোনার টিকার জরুরিভিত্তিতে প্রয়োগ কর্মসূচির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করেনি বেইজিং। তবে দেশটির কমপক্ষে তিনটি সম্ভাব্য টিকা এ কর্মসূচির আওতায় প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে দুটি টিকা উদ্ভাবন করেছে রাষ্ট্র–সমর্থিত দুই প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল বায়োটেক গ্রুপ (সিএনবিজি)। অপরটির উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেক। তিনটি টিকাই মানবদেহে পরীক্ষার তৃতীয় ধাপে রয়েছে। এ ছাড়া চীনের ক্যানসিনো বায়োলজিকসের সম্ভাব্য টিকাটি সামরিক বাহিনীতে প্রয়োগের জন্য গত জুনে অনুমোদন দেয় কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

টিকার যৌথ উৎপাদনে রাশিয়া ও ইরান
রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি গতকাল বলেছেন, করোনার টিকার যৌথ উৎপাদনের বিষয়ে তাঁর দেশ ও রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। রাশিয়ার সংবাদ সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। রাশিয়ার বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডও (আরডিআইএফ) বলেছে, রাশিয়ায় উদ্ভাবিত করোনার সম্ভাব্য টিকা ‘স্পুটনিক-ভি’-এর যৌথ উৎপাদনের জন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে তারা। এরই মধ্যে এই টিকার ৩০ কোটি ডোজ উৎপাদনে ভারতের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মন্তব্য পড়ুন 0